ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে লেনদেন সম্পর্কিত বিধি-বিধানের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়ে নির্দেশনা রোববার বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংকের  চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ/প্রধান নির্বাহী কাছে পাঠানো হয়েছে।
কেন্ত্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং ও প্রবিধি নীতি বিভাগের জারিকৃত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক-কোম্পানীর তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের আস্থা অর্জন ও বজায় রাখার লক্ষ্যে ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে সম্পাদিত লেনদেন সুস্পষ্ট নীতিমালার আওতায় স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (২০১৩ পর্যন্ত সংশোধিত) এর ১৭, ১৮, ২৬গ, ২৭ ও ২৮ ধারাসমূহে এ জাতীয় লেনদেন সম্পর্কিত কতিপয় বিধান সন্নিবেশিত সুষ্ঠু পরিপালনসহ ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে জারিকৃত নীতিমালা মেনে চলতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক-কোম্পানী নিজ ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির সাথে বা তাঁর স্বার্থের অনুকূলে এমন কোনো আর্থিক লেনদেন করবে না যার শর্তাবলী ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোনো ব্যক্তির সাথে সম্পাদিত লেনদেনের শর্তাবলী অপেক্ষা সহজতর। ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা তাঁর স্বার্থের অনুকূলে সম্পাদিত সকল আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
প্রজ্ঞপনে আরো বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক-কোম্পানী কর্তৃক নিজ ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বা তাঁদের স্বার্থের অনুকূলে প্রদত্ত প্রত্যক্ষ ঋণ-সুবিধার মোট পরিমাণ উক্ত ব্যাংক-কোম্পানীর টিয়ার-১ মূলধনের শতকরা ১০ ভাগ এর বেশী হবে না। যে সব প্রত্যক্ষ ঋণসুবিধার বিপরীতে নগদ অর্থ ও নগদায়নযোগ্য জামানত রয়েছে সে সব ঋণসুবিধার ক্ষেত্রে উক্তরূপ জামানত বাদ দিয়ে নিরূপিত অর্থই প্রকৃত ঋণসুবিধা হিসেবে গণ্য হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, মুদারাবা বা মুশারাকাসহ অন্য যে কোন ঋণ/বিনিয়োগ পদ্ধতি, যাতে ঋণ গ্রহীতাকে লোকসান বহন থেকে সম্পূর্ণ বা আংশিক অব্যাহতি প্রদান করা হয়, এমন ঋণ/বিনিয়োগ পরিচালক বা পরিচালকের উক্তরূপ আত্মীয়-স্বজন ও নির্ভরশীল এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদান করা যাবে না।
এছাড়া পরিচালক, তাঁর একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, তাঁর অংশীদারীত্বে পরিচালিত ফার্ম, তিনি পরিচালক হিসেবে অধিষ্ঠিত আছেন এরূপ প্রাইভেট কোম্পানী ও পাবলিক কোম্পানী, এবং পরিচালকের স্ত্রী, স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন এবং পরিচালকের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তির অনুকূলে প্রত্যক্ষ ঋণ ৫০ লক্ষ টাকা বা ততোধিক এবং প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার সমন্বয়ে মোট ১০০ লক্ষ টাকা বা ততোধিক প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
প্রজ্ঞপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ২৬গ, ২৭ এবং ২৮ ধারার পরিপালনকল্পে এই সার্কুলার জারি করা হলো। পরিচালকগণসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সাকুর্লারে উল্লিখিত বিধানাবলী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী অবহিত করতে নির্দশ দেয়া হয়েছে।
এই সার্কুলার অবিলম্বে কার্যকর বলে গণ্য হবে বলে জানিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই সার্কুলার কার্যকর হওয়ার পর থেকে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭ তারিখঃ ১২ আগস্ট ১৯৯৬, বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং-০৮ তারিখঃ ২৩ মার্চ ১৯৯৯, বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭ তারিখঃ ০৫ আগস্ট ১৯৯৯, বিআরপিডি সার্কুলার নং-১১ তারিখঃ ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯, বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং-২০ তারিখঃ ২৫ অক্টোবর ১৯৯৯, বিআরপিডি সার্কুলার নং-০১ তারিখঃ ৩০ জানুয়ারী ২০০০, বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৩ তারিখঃ ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০০১, বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৯ তারিখঃ ২৪ অক্টোবর ২০০১ এবং বিআরপিডি সার্কুলার নং-০২ তারিখঃ ২১ জানুয়ারী ২০০২ বাতিল বলে গণ্য হবে।
[b]ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]