[b]ঢাকা: [/b]স্থগিত সুদ এবং আরোপিত সুদ আয় খাতে হিসাবায়নের ব্যাপারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আবারো সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে সুদের প্রকৃত আদায় করা অংশ কেবলমাত্র আয় খাতে হিসাবায়ন করা যাবে বলে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কোনো কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক শাখায় বিরূপ শ্রেণীবিন্যাসিত ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণের পর্যায়ে স্থগিত হিসাবে রাখছে। একই সঙ্গে আরোপিত অনাদায়ী সুদ আয় খাতে নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা ঋণ শ্রেণীকরণ, প্রভিশনিং ও পুনঃতফসিল নীতিমালার পরিপন্থী।
এ অবস্থায় বিরূপ শ্রেণীবিন্যাসিত ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণের মাধ্যমে বিশ্রেণীবিন্যাসিত করার পর্যায়ে স্থগিত সুদ হিসাবে রক্ষিত ও আরোপিত অনাদায়ী সুদ আয় খাতে হিসাবায়ন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুদের প্রকৃত আদায়কৃত অংশই কেবল আয় খাতে হিসাবায়ন করা যাবে বলে বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সব শাখায় এ নির্দেশনা যথাযথ পালনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে মন্দ বা ক্ষতিমানের ঋণের বিপরীতে ১৫ শতাংশ হারে সাধারণ প্রভিশন কিংবা নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করার বিধান রয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) ক্ষেত্রে সব অশ্রেণীকৃত ঋণের ক্ষেত্রে প্রভিশন দশমিক ২৫ শতাংশ রাখতে হবে। বকেয়া ঋণের ক্ষেত্রে প্রভিশনের ভিত্তি ১৫ শতাংশ।
কোনো ঋণ দুই মাস বা তার বেশি সময় পরিশোধ না করলে তা বিশেষ উল্লেখ হিসাবে (এসএমএ) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। আগে এ ঋণের বিপরীতে ধার্যকৃত সুদ সন্দেহভাজন সুদ হিসাবে দেখানোর নির্দেশনা ছিল। এখন তা স্বাভাবিক ব্যাংক হিসাবে দেখানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ঋণ পুনঃতফসিলের চলতি ঋণের ক্ষেত্রে নিম্নমান হিসেবে শ্রেণীকৃত ঋণ পুনঃতফসিলের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মধ্যে প্রথমবার পুনঃতফসিল করা হয়, আগে যা ছিল ১২ মাস। দ্বিতীয়বার পুনঃতফসিল করা হচ্ছে ১২ মাসে, আগে যা ছিল নয় মাসে।
চলতি ঋণের সন্দেহজনক হিসাবে প্রথমবার ১২ মাসে পুনঃতফসিল করা যাবে। আগে যা ছিল নয় মাস। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুনঃতফসিল করা যাবে নয় ও ছয় মাসে। আগে যা ছিল ছয় ও তিন মাস। মন্দ ও ক্ষতিজনক ঋণ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার পুনঃতফসিল করা যাবে যথাক্রমে ১২, নয় ও ছয় মাসে। আগে যা ছিল ছয়, তিন ও তিন মাসে।
ডিমান্ড ঋণের ক্ষেত্রে নিম্নমান হিসাবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুনঃতফসিল করা যাবে ১২, নয় ও ছয় মাসে। আগে যা ছিল নয়, ছয় ও তিন মাসে। সন্দেহজনক হিসাবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুনঃতফসিল করা যাবে নয়, ছয় ও ছয় মাসে। আগে যা ছিল ছয়, তিন ও তিন মাসে। মন্দ ও ক্ষতিজনক হিসাবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুনঃতফসিল করা যাবে নয়, ছয় ও ছয় মাসে। আগে তিন পুনঃতফসিলেই করার নির্দেশনা ছিল তিন মাসে।
স্থায়ীমেয়াদি (ফিক্স টার্ম) ঋণের ক্ষেত্রে নিম্নমান হিসেবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুনঃতফসিল করা যাবে ২৪, ১৮ ও ১২ মাসে। আগে যা ছিল ১৮, ১২ ও নয় মাস। সন্দেহজনক হিসেবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুনঃতফসিল করা যাবে ১৮, ১২ ও নয় মাসে। আগে যা ছিল ১২, নয় ও ছয় মাসে। মন্দ ও ক্ষতিজনক হিসেবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুনঃতফসিল করা যাবে ১৮, ১২ ও নয় মাসে। আগে যা ছিল নয়, ছয় ও তিন মাসে।
মেয়াদি ঋণে পুনঃতফসিলের জন্য ডাউন পেমেন্ট বা এককালীন অর্থ পরিশোধে প্রথমবার পুনঃতফসিল করতে বকেয়া পরিমাণের ১৫ শতাংশ অথবা মোট ঋণের ১০ শতাংশের মধ্যে যেটি বেশি, সেটি নগদ পরিশোধ করতে হবে। ১৫-এর বদলে আগে ২৫ শতাংশ পরিশোধের নির্দেশনা ছিল। এ ছাড়া নীতিমালা অনুযায়ী, ঋণ পুনঃতফসিল হলেও তা অশ্রেণীকৃত হিসাবে দেখানোর বিধান রয়েছে ব্যাংকগুলোর।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]