প্রবাসী আয়ের সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আসে। গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক ধারা শুরু হয়েছে। যার বেশিরভাগ কমেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যদিও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত রেমিট্যান্স প্রবাহের শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশ থেকে ৮৪০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা এর আগের অর্থবছরে ছিল ৯১৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। সেই হিসেবে গত অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ৭৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরব থেকে ৭১ কোটি ডলার কমে গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ৩১১ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া উন্নত দেশগুলো থেকে গত অর্থবছরে ৫৮২ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা এর আগের অর্থবছরে ছিল ৫২৯ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। সেই হিসেবে গত অর্থবছরে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫৩ কোটি ডলার। শুধু যুক্তরাষ্ট্র থেকে গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৪৬ কোটি ৩৬ লাখ ডলার বেড়ে ২৩২ কোটি ৩৩ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, রেমিট্যান্স আহরণের শীর্ষ পাঁচ দেশ হল-সৌদি আরব (৩১১.৮৮ কোটি ডলার), সংযুক্ত আরব আমিরাত (২৬৮.৪৮ কোটি ডলার), যুক্তরাষ্ট্র (২৩২.৩৩ কোটি ডলার), কুয়েত (১১০.৬৮ কোটি ডলার) ও মালয়েশিয়া (১০৬.৪৬ কোটি ডলার)।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টাকার বিপরীতের ডলারের চাঙ্গা ভাবের কারণে ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রবাসীরা বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। কিন্ত সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দাম কমে যাওয়া বা দীর্ঘ সময় টাকার মান স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীদের মধ্যে কম পরিমাণে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা দেখা গেছে।
তা ছাড়া গত অর্থবছর জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের বিনিয়োগের পরিবেশ অনুকূল ছিল না। অন্যদিকে শ্রমবাজারগুলোতে জনশক্তি রফতানিও হচ্ছে না। এসব কারণেই গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা নেমেছে।
ঢাকা, ২৮ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর





