শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ দশমিক ৭২ ডলারে পৌঁছায়। এক সপ্তাহে এ তেলের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ, যা গত দুই মাসের মধ্যে এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ তেলের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির খরচ বাড়ছে
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও। দেশটির মোটরচালক সংগঠন এএএর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম বেড়ে ৪ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত মে মাসে এ দাম সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৫৫ ডলারে উঠেছিল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে পেট্রলের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি।
এদিকে ডিজেলের দামও বেড়ে প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ৩১ ডলারে পৌঁছেছে। গত সেপ্টেম্বরে ডিজেলের দাম সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৫১ ডলারে উঠেছিল। বর্তমান দামও সেই সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি।
ইরানে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ কত দিন চলবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। শিগগিরই সংঘাতের অবসান হওয়ার সম্ভাবনা কম—এমন ধারণা থেকেই তাঁরা বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন।
শুক্রবারের ফিউচারস চুক্তির তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলজুড়েও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে হামলা, সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
এ সপ্তাহে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে হামলা চালায়। এতে দুজন নিহত হন। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব থেকে কিছু কূটনৈতিক কর্মী সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ডয়চে ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলার সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংঘাতের কারণে অঞ্চলটি থেকে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সেপ্টেম্বরে তেল পরিবহন কিছুটা বাড়লেও চলতি মাসে তা আবার কমে গেছে।
চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও। শুক্রবার দেশটির প্রধান শেয়ারবাজার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এর আগের দিনও প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বিক্রির চাপে সূচকটির পতন হয়েছিল।
আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তাঁদের আশঙ্কা, আগে ধারণা করা সময়ের চেয়েও দীর্ঘদিন তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।
এদিকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক বাহিনী মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
এস
















