সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে পাঠানো এক নোটে এ প্রস্তাব দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়। অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খুব শিগগিরই জ্বালানি তেলের দাম কমানোর প্রস্তাব জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের বাজারে যে দামে বিভিন্ন জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে তা নির্ধারণ করা হয়েছে যখন বিশ্ববাজারে এসব তেলের দাম অনেক বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কমে গেছে।
আগামীতেও তেলের দাম তেমন একটি বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই। তাই দ্রুত দেশের বাজারে সকল ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমানো অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। এই পর্যায়ে অকটেন ও পেট্রোলের মূল্য শতকরা ১০ ভাগ এবং অন্যান্য তেলের দাম ২০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়
অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেনের মূল্য বিদ্যমান ৯৯ টাকা থেকে কমিয়ে ৮৯ টাকা ১০ পয়সা, কেরোসিন ৬৮ টাকা থেকে ৫৪ টাকা ৪০ পয়সা, ডিজেল ৬৮ টাকা থেকে ৫৪ টাকা ৪০ পয়সা, পেট্রোল ৯৬ টাকা থেকে ৮৬ দশমিক ৪০ পয়সা, ফার্নেস ওয়েল ৬০ পয়সা থেকে ৪৮ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
তবে উড়োজাহাজের জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত জেট-১ ফুয়েলের দাম অপরিবর্তিত রাখার কথা বলেছে অর্থমন্ত্রণালয়। বর্তমানে এই তেল লিটার প্রতি ৬১ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রণালয় হিসাব কষে দেখিয়েছে, দাম কমানোর পরও লিটার প্রতি অকটেনে ২৭ টাকা ১১ পয়সা, কেরোসিনে ৯ টাকা ১১ পয়সা, ডিজেলে ৯ টাকা ৭২ পয়সা, পেট্রোলে ২৩ টাকা ৯০ পয়সা এবং ফার্নেস ওয়েলে ১৪ টাকা ২৩ পয়সা লাভ থাকবে।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে সরকার ফার্নেস ওয়েলের দাম গত সপ্তাহে পুন:নির্ধারণ করেছে।
অর্থমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের কয়েকদফা দরপতনের পরও অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য সমন্বয় বা হ্রাস না করার প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রী স্বয়ং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি প্রতিবেদন প্রণয়নের জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ের নির্দেশ প্রদান করেন। এই নির্দেশের আলোকে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে তেলের দাম কমানোর বিষয়ে একটি সার-সংক্ষেপে অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য রোববার তার কাছে উপস্থাপন করে। এতে সকল ধরনের তেলের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়।
অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যের সাথে সমন্বয় করা হলে অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাবসহ এর সুফল দেশের সাধারণ জনগণের নিকট পৌঁছাবে। বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্য দরপতনের কারণে বাংলাদেশসহ হাতে গোনা কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই জ্বালানি মূল্য সমন্বয় বা হ্রাস করেছে।
এদিকে, ২০১৪ সাল থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেল ৪০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম যখন ব্যারেল ১১০ ডলার ছিল তখন সেই দর ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়। এখনও সেই দামেই দেশের বাজারে তেল বিক্রি হচ্ছে।
এমবি





