অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশী মুদ্রার মজুদ ২০  বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান রিজার্ভ সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের গত ফেব্রুয়ারিতে  বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ছিল ১৯১৫০.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম এবং ১৯ মার্চ দ্বিতীয়বারের মতো রিজার্ভ ১৯ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। পরে ৫ মার্চ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের ৯৬ কোটি ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ১৯ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। প্রতি দুই মাস পর পর আকুর বিল পরিশোধ করতে হয়।
গত কয়েক দিনে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ধারার কারণে রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
২০০৯ সালের ১০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১০ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের ৭ মে তা ১৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। আর গত ১৯ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় ১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের রিজার্ভ ৩০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি; আর পাকিস্তানের ১০ বিলিয়ন ডলারের মতো।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ছয় মাসের আমদানি দায় মেটানো সম্ভব। সার্কভূক্ত দেশগুলোর মাঝে বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বাংলাদেশ ব্যাংক আরো জানায়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির বিবেচনায় বর্তমান মজুদ স্বস্তিদায়ক হলেও এ মজুদ আরো বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রার যথেষ্ট মজুদ একদিকে যেমন দেশের উন্নততর সার্বভৌম রেটিং প্রাপ্তিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে সরকারি/বেসরকারি পর্যায়ে অপেক্ষাকৃত কম সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারে। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ আকর্ষণেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। রিজার্ভ বৃদ্ধির কারণে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা পূর্বের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
গত ১৩ই আগস্ট দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার মজুদ ১৬ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।
[b]ঢাকা, ১০ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]