পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবস বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। গেল সপ্তাহে বেড়েছে সব ধরণের মূল্য সূচক ও টাকার অংকে লেনদেনের পরিমাণ। এ ছাড়া বাজার মূলধনও বেড়েছে আগের সপ্তাহের চেয়ে। সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবস দৈনিক লেনদেন গড়ে তিনশ কোটি টাকা থাকলে শেষ দুই কার্যদিবসে লেনদেন পাঁচ’শ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
গেল সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাংকিং খাতে ঊর্ধ্বমুখী ধারা লক্ষ করা গেছে। এ খাতে গেল সপ্তাহে ৮৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরই বেড়েছে। মূলত বর্তমানে এ খাতের কোম্পানিগুলো বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও লভ্যাংশ ঘোষণা করছে। এতে খাতটির প্রতি ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।
গেল সপ্তাহে তিনটি ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করে। তার আগের সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ব্যাংকে এ-সংক্রান্ত ঘোষণা আসে। পাশাপাশি অধিকাংশ শেয়ারের দর অনেকটা কম থাকায় বিনিয়োগকারীদেরও সাম্প্রতিক সময়ে এ খাতের প্রতি আগ্রহ বেশি। এছাড়া ব্যাংকিং খাতের ২০১৩ হিসাব বছরের লভ্যাংশ তার আগের হিসাব বছরের চেয়ে কিছুটা ভালো হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এ খাতের প্রতি উত্সাহী হচ্ছেন। গেল সপ্তাহের লেনদেন হওয়া ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে দর বাড়ে ২৫টির, কমে ৪টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১টির।
গেল সপ্তাহে এ খাতের মধ্যে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ারের দর ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি বাড়ে।
মূলত কোম্পানিটি এ সময় লভ্যাংশ ঘোষণা করে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ১২ শতাংশ বোনাস শেয়ার ও ৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৩ টাকা ও শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য (এনএভি) ১৯ টাকা ১৪ পয়সা। আগামী ১২ জুন বেলা ১১টায় এর এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড ডেট ৯ এপ্রিল।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহের শুরুতে শেয়ারটির দর ছিল ১৭ টাকা ৩০ পয়সা, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ১৯ টাকা ৪০ পয়সায়।
এ সময় শেয়ারটির দর বাড়ে ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ। এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে এ শেয়ারের দর বাড়ে ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ৬০ পয়সা। সারা দিন এর দর ১৮ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১৯ টাকা ৭০ পয়সায় ওঠানামা করে। সর্বশেষ ১৯ টাকা ৬০ পয়সায় এর লেনদেন হয়, যা দিন শেষে দাঁড়ায় ১৯ টাকা ৪০ পয়সায়। এদিন মোট ৮৭ লাখ ৫৯ হাজার শেয়ার ১ হাজার ১৩৪ বারে লেনদেন হয়।
সিটি ব্যাংকের শেয়ারের দর সপ্তাহের শুরুতে ছিল ১৯ টাকা ২০ পয়সা, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ১৯ টাকা ৯০ পয়সায়। পরিচালনা পর্ষদ সম্প্রতি ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে কোম্পানিটির ইপিএস ১ টাকা ৩১ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি এনএভি ২৬ টাকা ৬৫ পয়সা।
সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গেল সপ্তাহে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৮ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি এনএভি ১৫ টাকা ৭৮ পয়সা। আগামী ৩১ মে কোম্পানিটির এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড ডেট ২৪ এপ্রিল। ডিএসইতে গেল সপ্তাহের শুরুতে শেয়ারটির দর ছিল ১৩ টাকা ৩০ পয়সা, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ১৪ টাকায়।
সবশেষ কার্যদিবসে এ শেয়ারের দর অপরিবর্তিত ছিল। সবশেষ লেনদেন হয় ১৪ টাকা ১০ পয়সায়, যা দিন শেষে দাঁড়ায় ১৪ টাকায়। এদিন মোট ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ শেয়ার ২০৫ বারে লেনদেন হয়।
যমুনা ব্যাংকের শেয়ারের দর গেল সপ্তাহের শুরুতে ছিল ১৫ টাকা ২০ পয়সা, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ১৫ টাকা ৮০ পয়সা। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা দেয়। সমাপ্ত হিসাব বছরে এর সমন্বিত মুনাফা হয়েছে ১১৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ইপিএস ২ টাকা ৫৫ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি এনএভি ১৯ টাকা ৮২ পয়সা। আগামী ৮ মে সকাল ১০টায় এর এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। এ-সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ এপ্রিল।
এদিকে সবশেষ কার্যদিবসে এ শেয়ারের দর বাড়ে ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বা ২০ পয়সা। সারা দিন এর দর ১৫ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ১৫ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে। সবশেষ ১৫ টাকা ৯০ পয়সায় এ শেয়ারের লেনদেন হয়, যা দিন শেষে ছিল ১৫ টাকা ৮০ পয়সা। এদিন মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ শেয়ার ১১৬ বারে লেনদেন হয়।
ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারের দর সপ্তাহের শুরুতে ছিল ১৬ টাকা ৭০ পয়সা, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ১৭ টাকা ১০ পয়সায়। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ১২ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নেট মুনাফার পরিমাণ ৩২ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
ডিএসইতে সবশেষ কার্যদিবসে এ শেয়ারের দর কমেছে ১ দশমিক ১৭ শতাংশ বা ২০ পয়সা। সারা দিন এর দর ১৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১৭ টাকা ৩০ পয়সায় ওঠানামা করে। সবশেষ ১৬ টাকা ৯০ পয়সায় এ শেয়ারের লেনদেন হয়। দিন শেষে এ শেয়ারের দর দাঁড়ায় ১৭ টাকা ১০ পয়সা। এদিন মোট ১ লাখ ১১ হাজার শেয়ার ৬৪ বারে লেনদেন হয়।
এছাড়া গেল সপ্তাহে ওয়ান ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারের দর উল্লেখ্য যোগ্য হারে বাড়ে। অন্যদিকে কমে ঢাকা, ইসলামী, রূপালী, উত্তরা ও এবি ব্যাংকের শেয়ারের দর। অপরিবর্তিত ছিল ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ারের দর।
এদিকে সপ্তাহশেষে ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স ২.৫১ শতাংশ বা ১১৩.১৭ পয়েন্ট বেড়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস অর্থাৎ রবিবার ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স কমেছে ২৯ পয়েন্ট, সোমবার বেড়েছে ১৩ পয়েন্ট, মঙ্গলবার বেড়েছে ২৬ পয়েন্ট, বুধবার বেড়েছে ৬৮ পয়েন্ট এবং বৃহস্পতিবার বেড়েছে ২৫ পয়েন্ট।
শরিয়াহ সূচক সপ্তাহশেষে ২.৭৩ শতাংশ বা ২৬.৮৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১০০৮ পয়েন্টে।
আর ডিএস-৩০ ইনডেক্স সপ্তাহশেষে ৩.৮৪ শতাংশ বা ৬১.৮০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৬৭০ পয়েন্টে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৬৬.১৩ শতাংশ বা ৭৫৫ কোটি ৮১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩০ টাকা। গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৮৯৮ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার ৬৯২ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।
আগের সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৪২ কোটি ৯৬ লাখ ১৭ হাজার ২৬২ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৩২.৯০ শতাংশ বা ৯৪ কোটি ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮২২ টাকা।
গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবস ডিএসইতে গড় লেনদেন হয়েছে ৩৭৯ কোটি ৭৫ লাখ ৫২ হাজার ১৩৮ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।
আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছিল ২৮৫ কোটি ৭৪ লাখ ৪ হাজার ৩১৬ টাকা।
সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া ৩০৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫২টির, কমেছে ১৩৩টির, দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির এবং লেনদেন হয়নি ২টি কোম্পানির।
গত সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন বেড়েছে ২.৭৬ শতাংশ বা ৭ হাজার ৮৩৬ কোটি ৭৩ লাখ ২০ হাজার ৪৪৩ টাকা। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ৫৩৭ কোটি ১৩ লাখ ৯৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৩ কোটি ৮৭ লাখ ১৯ হাজার ৪৩ টাকা।
সপ্তাহশেষে অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ মূল্য সূচক ২.১২ শতাংশ বা ১৮৬ পয়েন্ট বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৬টির, কমেছে ৯৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টি কোম্পানির শেয়ার দর।
[b]ঢাকা, ৫ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]