[b]ঢাকা:[/b] ধারাবাহিকভাবে কমছে পাটের রফতানি। ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে এ প্রবণতা শুরু হয়েছে। চলতি (২০১৩-১৪) অর্থবছরও তা অব্যাহত রয়েছে। পাটের রফতানি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে কয়েক বছর ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি উৎসে করারোপেরও প্রভাব পড়েছে পণ্যটির রফতানিতে। সর্বোপরি পাকিস্তানের সঙ্গে শীতল সম্পর্কের কারণে বিপাকে পড়েছেন কাঁচা পাট রফতানিকারকরা।
চলতি বছর পাটের মওসুম শুরু হওয়ার পর পরই দেশের রাজনৈতিক অবস্থা চরম অস্থির হয়ে উঠলে অন্যান্য শিল্পের মতো চাপে পড়েছে পাটশিল্প। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথার্ধে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি কমেছে ১৭.১০ শতাংশ।
আলোচ্য সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছে ৪১ কোটি ৬৪ কোটি ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। ২০১২-১৩ অর্থবছরের একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছিল ৫০ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। আলোচ্য সময়ে কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৪ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।
এছাড়া ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর মাসের তুলনায় চলতি বছর একই সময়ে পাট রফতানি কমেছে ২০.৬৬ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে পাট রফতানি লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে আছে ২৭.৯৭ শতাংশ। জুলাই মাস থেকেই দেশের পুরোপুরি পাটের মওসুম শুরু হয়। অথচ এবার রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিদেশে পাট রফতানিতে চলতি বছর যত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা ব্যর্থতা হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
আর এ কারণেই রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পাটজাত দ্রব্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৬৩.৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু চলতি বছরের শুরু থেকেই রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতায় উৎপাদিত পাট ঠিক সময়ে বন্দর পর্যন্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আর এ কারণে রপ্তানিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন রফতানি সংশ্লিষ্টরা। পাট ও পাটপণ্যের মধ্যে সব চেয়ে বেশি কমেছে কাঁচাপাট রফতানি। আলোচ্য সময়ে এই পণ্যটির রপ্তানি কমেছে ৪৯.৮৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে যা রফতানি হয়েছে ৫ কোটি ৯০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।
গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। তাছাড়া পাটের বস্তা ও ব্যাগ রফতানি কমেছে ২৯.১৭ ভাগ। চলতি অর্থবছরে এই পণ্যটির রফতানির হয়েছে ৮ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১২ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার।
পাট রফতানির কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের দাম কমে যাওয়া, প্রতিবেশী দেশ ভারত পণ্যটির ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দেশীয় বাজারে পাটের ন্যায্য দাম না পাওয়াকে দায়ী করা হচ্ছে।
তাছাড়া সরকারিভাবে পাট পণ্য ব্যবহারে বাধ্যতামূলক করা হলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এতে দেশীয় বাজারে পাটও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে না। এতে করে আরও বেশি হতাশ হচ্ছেন কৃষকরা।
বাংলাদেশ প্রধানত চীন, ভারত, পাকিস্তান, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভিয়েতনাম, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, বেলজিয়াম, তিউনিশিয়া, ইরান, এলসালভাদর, স্পেন, ফ্রান্স, বৃটেন, আইভরিকোস্ট, ব্রাজিল, জিবুতি, ইতালি ও তাইওয়ানে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে থাকে। জানা যায়, দেশে প্রতিবছর পাট উৎপাদন হয় ৬০ থেকে ৬৫ লাখ বেল।
তবে দেশের ভেতরে মোট ৩০ থেকে ৩২ লাখ বেল পাটের চাহিদা রয়েছে। যা মোট উপাদনের অর্ধেক। বাকি পাট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়। এর মধ্যে বছরে ২৬ থেকে ২৭ লাখ বেল পাট কারখানায় ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া কুটিরশিল্পে ৩ লাখ বেল ও অন্য কাজে আরও ২ লাখ বেল পাটের ব্যবহার হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, উৎপাদিত পাটের সিংহভাগ ব্যবহার হয় জুট মিলগুলোয়। পাটজাত পণ্য উৎপাদনে সরকারি ও বেসরকারি জুট মিলগুলোয় কাঁচা পাটের চাহিদা বছরে ৪২-৪৫ লাখ বেল। হস্তশিল্পে চাহিদা প্রায় তিন লাখ বেল। আর কাঁচা পাট হিসেবে রফতানি হয় ২০ লাখ বেল। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছে মজুদ থাকে ১৫-২০ লাখ বেল কাঁচা পাট।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]
অর্থনীতি
আশঙ্কাজনক হারে কমছে পাট রফতানি
ঢাকা: ধারাবাহিকভাবে কমছে পাটের রফতানি। ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে এ প্রবণতা শুরু হয়েছে। চলতি (২০১৩-১৪) অর্থবছরও তা অব্যাহত রয়েছে। পাটের রফতানি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে কয়েক বছর ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।





