দেশে সম্প্রসারণ হচ্ছে ওষুধের বাজার। উৎপাদনে আসছে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান, বাড়ছে ওষুধের সংখ্যাও। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও ওষুধের মূল্য নির্ধারণে ১৫ বছর ধরে গেজেট প্রকাশ করছে না ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। ফলে নিজের ইচ্ছামতো দামে ওষুধ বিক্রি করে যাচ্ছে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো। রোগীরাও চড়া দামে তা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ সালের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশের ১১ ধারার ১ উপধারায় বলা আছে, যেকোনো ওষুধের বিক্রয় মূল্য সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করবে।

একই ধারার ২ উপধারায় বলা হয়েছে, আমদানিকৃত কাঁচামালের দামের নিরিখে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু দেশে ওষুধের মূল্য নির্ধারণে সর্বশেষ ২০০০ সালে গেজেট প্রকাশ হয়েছিল।

এদিকে এর সুযোগ নিচ্ছে ওষুধ কোম্পানিগুলো। বিভিন্ন সময় তারা বাড়িয়ে দিচ্ছে ওষুধের দাম। তবে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর বলছে, তারা স্বল্পসংখ্যক ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে। এজন্য গেজেট প্রকাশ করা হচ্ছে না।

গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের ওপর এক গবেষণা প্রতিবেদন দাখিল করে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ওষুধের মূল্য নির্ধারণে গেজেট প্রকাশের সময়সীমা সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। নিয়মিত গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় উচ্চমূল্যে ওষুধ বিক্রি হলেও আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

১৯৯৪ সালে তত্কালীন বিএনপি সরকারের আমলে একটি আদেশ জারি হয়। ওই আদেশে বলা হয়, ১১৭টি ওষুধের মূল্য প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করবে এবং অন্যান্য ওষুধ নিজ নিজ কোম্পানি নির্ধারণ করবে। এর পর থেকে মূল্যের ব্যাপারে ওষুধ প্রশাসন আগের অধ্যাদেশ পাশ কাটিয়ে ওই আদেশকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে; যা অধ্যাদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো অনেক ক্ষমতাধর। এ কারণে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি আদেশকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে তারা। ওষুধ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরাও কোম্পানিগুলোর পক্ষে কাজ করে আসছে। এক্ষেত্রে সরকারেরই ভূমিকা নেয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

একসময় অধিকাংশ ওষুধ আমদানিনির্ভর ছিল। কিন্তু বর্তমানে সীমিত সংখ্যক ওষুধই আমদানি করতে হয়। শুধু তা-ই নয়, এখন বিশ্বের ৯৮টি দেশে রফতানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ।

বাংলাদেশ ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে থাকলেও এখনো অনেক ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে। নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেয় কোম্পানিগুলো। দোকানিরাও সুযোগ বুঝে নির্ধারিত মূল্যের কয়েক গুণ বেশি মূল্যে ওষুধ বিক্রি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার প্রকারের ওষুধ রয়েছে। কিন্তু ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর মাত্র ১১৭টি ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে। স্বল্প সংখ্যক ওষুধের কারণে গেজেট প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তবে অধিদফতরের আরেক পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, দেশে উৎপাদিত সব কোম্পানির যাবতীয় ওষুধের মূল্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে থাকবে। এজন্য ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। দু-তিন মাসের মধ্যে তা তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি। সূত্র: বনিক বার্তা।

এআই