বাংলাদেশে ভোক্তাদের আস্থা কিছুটা কমেছে। এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের ভোক্তা আস্থা সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ৭৫ দশমিক ৩ পয়েন্টে নেমেছে।
গত বুধবার প্রকাশিত মাস্টারকার্ডের পরিচালিত ভোক্তা আস্থা সূচক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হওয়ার পেছনে কারণ হলো—জরিপের পাঁচটি উপাদানের মধ্যে শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত পূর্বাভাস বা ভবিষ্যদ্বাণী সম্পর্কে বাংলাদেশের ভোক্তাদের আস্থা ২১ পয়েন্ট কমে ৪৬ দশমিক ৫ পয়েন্ট হয়েছে।
চলতি ২০১৫ সালের মে ও জুন মাসে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৭টি দেশে আট হাজার ৭১৮ জন ব্যক্তির ওপর এই জরিপ করা হয়, যাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছর। তাঁদের পাঁচটি অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কে পরের ছয় মাসের পূর্বাভাস দিতে বা ভবিষ্যদ্বাণী করতে বলা হয়। উপাদানগুলো হচ্ছে—অর্থনীতির সম্ভাবনা, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, নিয়মিত আয়ের সম্ভাবনা, পুঁজিবাজার এবং জীবনযাপনের মান।
এবারের জরিপে অস্ট্রেলিয়া সর্বনিম্ন ও ভারত সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে। অস্ট্রেলিয়ার ভোক্তা আস্থা সূচক ৩৯ দশমিক ৫ পয়েন্টে। অন্যদিকে ভারতের অর্জন সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ১ পয়েন্ট। এর মানে হলো এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একমাত্র ভারতের জনগণের মধ্যেই দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে সর্বোচ্চ আশাবাদ দেখা গেছে।
ভোক্তা আস্থা হচ্ছে একটি দেশের অর্থনৈতিক নির্দেশক। এর মাধ্যমে বোঝা যায় ভোক্তারা দেশের অর্থনীতি এবং ব্যক্তিগত আয় নিয়ে কতটা আশাবাদী। ভোক্তারা যদি মনে করেন, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল এবং উন্নয়নমুখী, তখন আস্থা বেড়ে যায় এবং ব্যয়ও বাড়ে। অন্যদিকে ভোক্তারা যদি দেশের স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে সন্দিহান হন, তবে তাঁদের আস্থা কমে যায় এবং তাঁরা ব্যয়ও কমিয়ে দেন। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে।
বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনীতির দেশ চীনের ভোক্তাদের আস্থাও বেশ স্থিতিশীল ও আশাবাদের প্রবণতায় রয়েছে। দেশটির ভোক্তা আস্থা সূচক দশমিক ৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৯ পয়েন্ট। জরিপের সময় অবশ্য চীনের ভোক্তারা শেয়ারবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক মতামত না দিলেও পরে অবশ্য দেশটির শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।
মাস্টারকার্ডের গ্লোবাল প্রডাক্টস অ্যান্ড সলিউশনসের গ্রুপ এক্সিকিউটিভ ম্যাথিউ ড্রাইভার বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। একমাত্র ভারতের ভোক্তাদের মধ্যেই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি আশাবাদ লক্ষ করা গেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংস্কার কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং তা জনগণকে বেশ ভালোভাবেই আকৃষ্ট করেছে।
এএইচ





