[b]ঢাকা:[/b] অতিরিক্ত মুনাফা লাভের প্রবণতা পরিহার করে মানসম্মত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন,  পণ্যের গুণগতমানের ওপর দেশের সুনাম নির্ভর করে। তিনি গুণগতমানের পণ্য উৎপাদন করে রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।  
শিল্পমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার নির্বাচিত মান পরীক্ষাগারের অনুকূলে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ, প্রশিক্ষিত মান অ্যাসেসরদের মাঝে প্রশিক্ষণ সনদ ও ই-লার্নিং কোর্সে উত্তীর্ণদের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহবান জানান। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) এবং ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) যৌথভাবে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) এর মহা-পরিচালক মোঃ আবু আবদুল্লাহ্র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পসচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ।
এতে স্বাগত  বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) এর পরিচালক ড. মোঃ নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে হোলসিম সিমেন্ট (বাংলাদেশ) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজনিস কাপুর, লুব-রেফ (বাংলাদেশ) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, ই-লার্নিং কোর্সে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী হাবিবা নাসরিন বক্তব্য রাখেন।  
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, লাভজনক ও টেকসই শিল্পখাত গড়ে তুলতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্যের গুণগতমান উন্নত করতে হবে। মানসনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে মান পরীক্ষাগারের সক্ষমতা ও গুণগতমান বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে।
পরীক্ষাগারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বা অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন রপ্তানি বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার বলে তারা মন্তব্য করেন। তারা দেশিয় পরীক্ষাগার প্রদত্ত সনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে অধিকহারে ল্যাবরেটরির অ্যাক্রেডিটেশন সনদ গ্রহণের ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পানি, লুব্রিকেন্ট, টেক্সটাইল ও মেকানিক্যাল টেস্টিং এর সাথে জড়িত চারটি ল্যাবরেটরির অনুকূলে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ এবং ৪৯ জন মান অ্যাসেসরের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদ প্রদান করেন।
এছাড়া তিনি জাপানভিত্তিক এশিয়ান প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন এর সহায়তায় এনপিও আয়োজিত ই-লার্নিং কোর্সে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মাঝেও সনদ বিতরণ করেন।
উল্লেখ্য, দূর শিক্ষণ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা ইন্সটিটিউট, ব্যাংক-বীমা, কৃষিপণ্য, তথ্য-প্রযুক্তি, খাদ্য, ঔষধ, সিমেন্ট, সিরামিক, প্লাস্টিক, ইলেক্ট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ৮১ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেয়। এতে জাপানি প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা, স্ট্যান্ডার্ডস্, তথ্য নিরাপত্তা, বিপণন ও রপ্তানি উন্নয়ন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ প্রশিক্ষণ দেশে গুণগতমানের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কাজে লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে।  
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]