অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশে দারিদ্র ও বৈষম্য বাড়ছে না। দেশ আগে কোথায় ছিল এখন কোথায় পৌঁছেছে। বৈষম্য যতোটা বাড়ার কথা তেমনটা বাড়ছে না।

আজ (শুক্রবার) রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বাজেট পর্যালোচনার ওপর সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের দরুণ দেশে কোনো বৈষম্য ও দারিদ্র বাড়বে না। দারিদ্রের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

যারা বলছেন এ বাজেটের মাধ্যমে দারিদ্র ও বৈষম্য বাড়ছে তারা মিথ্যা বলছেন বলে অভিযোগ করেন অর্থমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ এ বাজেটকে ভুয়া বাজেট বলছে। বাজেট কীভাবে ভুয়া হয়। যারা উন্নয়নকে স্বীকার করতে চায় না, যাদের দেশপ্রেম নেই ও নির্বোধ তারাই এ বাজেটকে ভুয়া বাজেট বলছে। তারা এ বাজেটের সমালোচনা করছে।  

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে উত্তেজিত হয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনাদের এসব প্রশ্ন অপ্রাসঙ্গিক। এগুলো কোনো প্রশ্নই না। কীভাবে বলছেন এটা গরীব মারার বাজেট। বৈষম্যের বাজেট। আপনারা কী বুঝেন। পরে অর্থমন্ত্রী প্রশ্নের উত্তর দেয়া থেকে বিরত থাকেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বাজেটে অনলাইন কেনাকাটায় কর নেই। এটা বাজেট বক্তৃতায় ভুল ছাপা হয়ে থাকতে পারে। গুগল ও ইউটিউবে কর বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আজম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম প্রমুখ আছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (০৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এছাড়া এনবিআরবহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে নয় হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। করবহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে অনুন্নয়নসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৯১ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতি এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ৫৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা।   

অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ২৯ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এমবি