তোবা গ্রুপের পোশাক কারখানার সাত তলায় অবস্থানরত শ্রমিকদের বুধবার সকাল থেকে স্যালাইন ও ওষুধ দিতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ।

দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের এক শিক্ষক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা এবং সাইদিয়া গুলরুক খাবার দিতে আসলে পুলিশ তাদের কারখানায় ঢুকতে দেয়নি। পরে তারা পুলিশের কাছে খাবার দিলে পুলিশ জানান, খাবার পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

খাবার পৌঁছানো নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকেরা সেখানেই অবস্থান করতে চান। কিন্তু এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা যেতে না চাইলে পুলিশ তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে সাংবাদিকদের সহায়তায় তারা রক্ষা পান। পরে পুলিশ তাদের বাড্ডা থানার সামনে নিয়ে ছেড়ে দেয়।

এর আগে শ্রমিক নেতাদের কারখানা থেকে বের করে দিলে শবনম হাফিজসহ তিনজন শ্রমিক নেতা রাস্তায় অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

পুলিশের সঙ্গে মালিক সমর্থিত কিছু শ্রমিক সংগঠন যোগ দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কারখানায় অনশনরত শ্রমিকদের পক্ষে কেউ কথা বলতে আসলে তাদের ওপর হামলা চালায় তারা।

কারখানার সামনে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ জলকামান, প্রিজনভ্যান, দাঙ্গাকার নিয়ে সতর্ক অবস্থানে আছেন।

জুন ও জুলাই মাসের বেতন, ওভারটাইম ও ঈদ বোনাসের দাবিতে রাজধানীর বাড্ডার হোসেন মার্কেটে ঈদের আগের দিন থেকে অনশন করে আসছেন তোবা গ্রুপের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। একই সঙ্গে শ্রমিকরা প্রতিষ্ঠানটির এমডি দেলোয়ার হোসেনের শাশুড়ি লাইলী বেগমকে কারখানা ভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।

৩ আগস্ট বিজিএমইএ অফিসে সরকার, গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ ও বিজিএমইএর নেতাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সভায় তোবার শ্রমিকদের দুই মাসের বেতন পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু শ্রমিকেরা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন। তারা পাওনা তিন মাসের বেতন ও বোনাস একসঙ্গে পরিশোধ করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

ঢাকা, ৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই