তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন ভারতের অর্থ ও করপোরেট বিষয়ক মন্ত্রী অরুণ জেটলি।

গতকাল বেলা ৩টার দিকে ভারতের একটি বিশেষ বিমানে ঢাকার কুর্মিটোলায় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুতে পৌঁছান তিনি।

সেখানে অর্থমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের পদস্থ কর্মকর্তারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

হাইকমিশন জানিয়েছে, মন্ত্রীর এ সফরে ভারতের তৃতীয় ঋণ চুক্তি সই হবে। বুধবার দুই অর্থমন্ত্রীর উপস্থিতিতে চুক্তিটি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বিশেষ আমন্ত্রণে এসেছেন জেটলি। ৫ই অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে কাটাবেন তিনি। সফরকালে তার সঙ্গে থাকছেন ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের সচিব সুভাষ চন্দ্র গর্গসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ভারতীয় শিল্প ও বণিক সমিতির (এফআইসিসিআই) ৩০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সফরের প্রথমদিনে গতকাল বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন সফররত ভারতের অর্থমন্ত্রী। হাইকমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে- ওই ঋণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের অগ্রাধিকারে থাকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সুরক্ষার জন্য দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তি নিয়ে ‘যৌথ ব্যাখ্যামূলক নোটও’ স্বাক্ষরিত হবে। ভারতের অর্থমন্ত্রী পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ ও ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে ‘ভারত সরকারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক উদ্যোগ’ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।

আজ সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সেই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া, দুই অর্থমন্ত্রী যৌথভাবে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ‘ক্যাশলেস ভিসা সার্ভিস’ পরিচালনার নতুন সেবা এবং এক্সিম ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ঢাকা কার্যালয়ের উদ্বোধন করবেন।

এর বাইরে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফর করেন।

২০১৭ সালের এপ্রিলে দিল্লি সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই সফরেই দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারিত্ব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু সিদ্ধান্ত এবং উদ্যোগ গৃহীত হয়।

এসব সিদ্ধান্ত এবং উদ্যোগগুলোর অবস্থাও পর্যালোচনা করবেন দুই অর্থমন্ত্রী। ২০১৭তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরকালে বাংলাদেশকে সাড়ে চার শ’ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণরেখা ঘোষণা করা হয়। আজ ওই ‘ডলার ঋণরেখা চুক্তিটি’ সই হলে গত ৬ বছরে বাংলাদেশকে ভারতের মোট ঋণরেখা ৮০০ কোটি ডলারে গিয়ে দাঁড়াবে।
জেড