২০১৪-১৫ অর্থবছরের কৃষি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  সোমবার বিকেলে নতুন অর্থবছর বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

নতুন কৃষি ঋণ নীতিমালায় অর্থবছর ২০১৪-১৫ এর জন্যে গত অর্থবছরের চেয়ে ৬.৫৪ শতাংশ বেশি অর্থাৎ মোট ১৫,৫৫০ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে সকল বেসরকারি ও বিদেশী ব্যাংককে তাদের মোট ঋণের ন্যূনতম ২.৫ শতাংশ এবং নতুন ৯টি ব্যাংকের মোট ঋণের ৫ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণের জন্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য যা ছিল ১৪ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন এ লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়লো প্রায় ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

গত অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৭ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। ২০১২-১৩ অর্থবছরের একই সময়ে কৃষিতে লক্ষ্যমাত্রার ৯১ দশমিক ৯৭ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। সে হিসাবে গত অর্থবছরের ১১ মাসে প্রায় পাঁচ শতাংশ বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

ড. আতিউর বলেন, গত পাঁচ বছরে দেশে দারিদ্র্যের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ কমানোর ক্ষেত্রেও কৃষি উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (ইফপ্রি) বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি জানান, মাত্র এক বছরেই এই সূচকে ১১ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এতো কিছুর পরেও বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকান্ড প্রদত্ত মোট ব্যাংক ঋণের মধ্যে কৃষি খাতের অংশ ৪ শতাংশের কম। এ কারণেই পর্যাপ্ত কৃষি ঋণ যোগান ও দেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের সামগ্রিক অবদান বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছর কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

আতিউর জানান, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে কৃষি ঋণ বিতরণ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। তিনি আরো বলেন, যে সকল ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবেনা তাদেরকে অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার অনর্জিত অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকে এক বছরের জন্যে জমা করতে হবে। তবে, এজন্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক উক্ত জমার ওপর ব্যাংক রেটে সুদ প্রাপ্য হবে।

গভর্নর বলেন, গত অর্থবছরের (২০১৩-১৪) কৃষি ঋণ নীতিমালার মূল দিকগুলো বজায় রেখে এবারের নীতিমালায় কৃষি ও পল্লী ঋণের আওতা বাড়ানো, পল্লী এলাকায় ব্যাংকিং কর্মকা-সম্প্রসারণে কৃষক ও সাধারণ মানুষকে ব্যাংকমুখী করা, দশ টাকায় খোলা ব্যাংক হিসাবধারী কৃষকদের জন্যে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল সুবিধা, কৃষি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির প্রয়োগ, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, আলু-পেঁয়াজসহ পচনশীল ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং, আমদানি নির্ভর মসলা জাতীয় ফসল চাষে বাড়তি উৎসাহ প্রদান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব প্রদান, উদ্ভাবিত নতুন ফসল ও প্রযুক্তি, জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব সহিষ্ণু জাতের ফসল চাষ ইত্যাদির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষকের দশ টাকার হিসাবগুলো সচল রাখার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে অধিকতর গতিশীল করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে।

নতুন নীতিমালায় কৃষিঋণ দেখিয়ে ব্যাংকগুলো যেন অন্য খাতে ঋণ বিতরণ না করতে পারে সেদিকে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া আগের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো কৃষকের ঋণ আবেদন বিবেচনা করা না গেলে ঋণ না পাওয়ার কারণ উল্লেখ করে কৃষককে জানাতে হবে। ঋণের আবেদন সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

পাশাপাশি কৃষিঋণনীতিতে সব শস্যঋণের ঋণসীমা বাড়ানো হয়েছে। অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর এবং উপেক্ষিত এলাকায় বিশেষ করে চর, হাওর ও উপকূলীয় এলাকায় কৃষিঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

অঞ্চলভিত্তিক ফসল উৎপাদন, ফসলের ধরন অর্থাৎ যে এলাকায় যে ফসল ভালো উৎপাদিত হয় সেগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবভিত্তিক পদ্ধতিতে ঋণ বিতরণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
আগের নীতিমালা অনুযায়ী তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ ও অগ্রিমের দুই শতাংশ থেকে তিন শতাংশ রাখতে হবে কৃষিঋণের জন্য। ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট ঋণের দুই শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণ করতে হবে।সেটি করতে না পারলে অবশিষ্ট অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকে এক বছরের জন্য জমা রাখার বিধান গত বছরের মতো এবারো কার্যকর থাকবে।

এর আগে ২০১১-১২ অর্থবছরে কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা ২০১২-১৩ অর্থবছরে করা হয় ১৪ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।

ঢাকা, ২১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর