২০দলীয় জোটের চলমান হরতাল-অবরোধে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শিল্প মালিকরা সরকারের কাছে প্রণোদনা দাবি করবে।

এ উপলেক্ষে সোমবার তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

বৈঠকে তৈরি পোশাক শিল্পের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি সালাম মুর্শেদী।

সোমবার দুপুরে অর্থমন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিজিএমইএ সভাপতি মো.আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বৈঠকে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএইএর ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

বিএনপি-জামায়াত জোটের ডাকা টানা কর্মসূচীতে দেশের মোট ক্ষতির পরিমাণ একলাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এ তথ্য দেওয়ার পর তৈরি পোশাক শিল্পসহ রপ্তানি খাতের অন্যান্য শিল্প মালিকরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রণোদনার জন্য সরকারের সঙ্গে দেন-দরবারে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যদিও কয়েকদিন আগে হরতাল-অবরোধের মত কর্মসূচীতে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প মালিকদের প্রণোদনা দেওয়া হবে কী না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, তৈরি পোশাক শিল্পখাতে হরতাল-অবরোধে তেমন প্রভাব পড়েনি। উৎপাদন ও রফতানি অব্যাহত আছে। সুতরাং তাদের তেমন ক্ষতি হয়েনি।

এ প্রসঙ্গে সালাম মোর্শেদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞাত। হরতাল-অবরোধের কারণে ক্ষয়-ক্ষতির যে হিসাব দিয়েছেন তিনি তা যথার্থই দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী যে কথা বলেছেন তা ঠিক নয়।

তিনি বলেন, আগামী কাল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে পোশাক শিল্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠক আছে। সেখানে আমরা এ খাতের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরবো। আশা করি তিনি বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন। বৈঠকে আমরা সরকারের কাছে ক্ষতি পূরণে আর্থিক প্রণোদনা দাবি করবো।

এক প্রশ্নের জবাবে সালাম মুর্শেদী বলেন, হরতাল-অবরোধের কারনে কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তার সঠিক পরিমান নির্ণয় করা সম্ভব নয়। এখাতে বিভিন্ন মেয়াদে ক্ষতি হচ্ছে। যা শুধু অর্থের অংকে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। হরতাল-অবরোধের কারনে এ খাতে সাপ্লাই চেইনে ক্ষতি হয়েছে, পণ্য উৎপাদন করার পর তা রফতানি করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, চট্রগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও বিমান বন্দরে খোঁজ নিলেই কি পরিমান পণ্য আটকে আছে তা জানা যাবে। এ ছাড়াও ক্রেতারা নতুন অর্ডার দিতে ভয় পাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ক্রেতারা অন্যদেশে চলে যাবে। এরই মধ্যে ক্রেতারা দাম কমিয়ে দিয়েছে।

সালাম মুর্শেদী আরো বলেন, এখন বোঝা না গেলেও তৈরি পোশাক খাতের ক্ষতি আগামী এপ্রিলে ভয়াবহ আকার ধারন করবে। এ সময় বেশির ভাগ কারখানা সক্ষমতা হারাবে, অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। বৈঠকে আমরা তৈরি পোশাকখাত সম্ভাব্য যে সব ক্ষতির মুখোমুখি হবে তা অর্থমন্ত্রীকে বোঝনোর চেষ্টা করবো। আশা করছি তিনি পুরো বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন।

এমকে