[b]ঢাকা: [/b]অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক) বহির্ভূত দেশগুলো থেকে চলতি বছর বাড়তির দিকে থাকবে জ্বালানি তেল সরবরাহ। এদিকে উত্তোলন কমায় তেল সরবরাহ কমবে ওপেকভুক্ত দেশগুলো থেকে। এ কারণে ২০১৪ সালে ওপেক বাজার হারাতে পারে বলে ভিয়েনাভিত্তিক তেল রফতানিকারকদের প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি তাদের মাসিক প্রতিবেদনে এ শঙ্কা প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য অনযায়ী, ওপেক বহির্ভূত দেশগুলো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ দৈনিক ৭০ শতাংশ বেড়ে ১২ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেলে ঠেকবে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ব্রাজিল থেকে পণ্যটির সরবরাহ বাড়লেও ওপেকের কমবে। এছাড়া সাম্প্রতিককালে ওপেকের তেল উত্তোলন কমতির দিকেই রয়েছে। গত মাসে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক ২ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল তেল উত্তোলন করেছে। এ পরিমাণ নভেম্বরের তুলনায় ২ কোটি ব্যারেল কম। উত্তোলন কম থাকাই ওপেকের বাজার হারানোর অন্যতম কারণ। বৈশ্বিক উত্তোলনের দিক দিয়ে ডিসেম্বরে ওপেকের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন এর আগের মাসের তুলনায় কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে।
চলতি বছর ওপেক সরবরাহকৃত তেলের দৈনিক চাহিদা থাকবে ২ কোটি ৯৬ লাখ ব্যারেল । এ পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৪ লাখ ব্যারেল কম। এ বছর পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা থাকবে ৯ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল। পূর্বাভাস পুনর্বিবেচনার পর তেলের চাহিদার পরিমাণ সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছর লিবিয়ায় জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়বে। এছাড়া ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে। তাই এখান থেকেও পণ্যটির সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল শনিবার জ্বালানি তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বে পণ্যটির শীর্ষ ভোক্তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে। ফলে দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এদিন।
নিউইয়র্কের মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে আগামী মাসে সরবরাহের জন্য প্রতি ব্যারেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪১ সেন্ট বেড়ে ঠেকে ৯৪ ডলার ৩৭ সেন্টে, যা ২ জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। চলতি সপ্তাহে ফিউচার মার্কেটে পণ্যটির দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। লন্ডনভিত্তিক আইসিই ফিউচার্স ইউরোপ এক্সচেঞ্জে আগামী মার্চে সরবরাহের জন্য প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের দাম ৭৩ সেন্ট বেড়ে উন্নীত হয় ১০৬ ডলার ৪৮ সেন্টে। লেনদেনের একপর্যায়ে এ পরিমাণ পণ্যের দাম কমে দাঁড়ায় ১০৫ ডলার ৪৪ সেন্টে, যা ১১ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। ইউরোপিয়ান বেঞ্চমার্কে মার্চে সরবরাহের জন্য প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই লেনদেনে প্রিমিয়াম ছিল ১১ ডলার ৮৯ সেন্ট।
ম্যাসাচুসেটসের প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজিক এনার্জি অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চের সভাপতি মাইকেল লিঞ্চ ব্লুমবার্গকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। অর্থনীতি উন্নতির দিকে যাওয়ার অর্থই হচ্ছে জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধি। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মজুদ গত সপ্তাহে ৭৬ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল কমে ৩৫ কোটি ২ লাখ ব্যারেল হয়েছে বলে গত বুধবার জানায় এনার্জি ইনফরমেশন আ্য্যডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)। এর পরই নিউইয়র্কে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। সূত্র: সিনহুয়া।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]
অর্থনীতি
জ্বালানি তেলের বাজার হারাতে পারে ওপেক
ঢাকা: অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক) বহির্ভূত দেশগুলো থেকে চলতি বছর বাড়তির দিকে থাকবে জ্বালানি তেল সরবরাহ। এদিকে উত্তোলন কমায় তেল সরবরাহ কমবে ওপেকভুক্ত দেশগুলো থেকে।





