[b]ঢাকা:[/b]  বিলাসবহুল যানবাহন ও আড়ম্বরপূর্ণ সাজসজ্জায় উচ্চ ব্যয় পরিহার করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ  এ সংক্রান্ত একটি প্রঞ্জাপন  বাংলাদেশে কার্যরত সকল ব্যাংক-কোম্পানীর প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছে।
ওই প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে,  ব্যাংক-কোম্পানীর ব্যবস্থাপনার উপর আমানতকারী ও ইক্যুইটি যোগানদাতাদের আস্থা বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন খাতে ব্যয়ে সাশ্রয়ী প্রবণতা প্রদর্শন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।  ব্যয় সাশ্রয়ে আয়-উদ্বৃত্ত বৃদ্ধি করতে সহায়ক হয় এবং ব্যবসার প্রসারের জন্য সুদ/চার্জ/ফি’র হার হ্রাস প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ায়।
সম্প্রতি কোন কোন ব্যাংকে নানাবিধ উচ্চ ব্যয় নির্বাহের প্রবনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যাংক-কোম্পানীর অর্থে পর্ষদ চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী ও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বিলাসবহুল মোটরগাড়ী ক্রয় এবং ব্যাংক শাখার চাকচিক্যপূর্ণ সাজসজ্জায় উচ্চ অংকের ব্যয় সম্পর্কে ইতোমধ্যে সাধারণের বিরূপ মন্তব্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই প্রবণতা নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে নিম্মে বর্ণিত অনুশাসন পরিপালনের জন্য নির্দেশনা দেয়া যাচ্ছে:
১) মোটরগাড়ী ক্রয়ে অনুসৃতব্য নির্দেশনা:
ক) ৫০.০০ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যে মোটরকার এবং ১ (এক) কোটি টাকার অধিক মূল্যে জীপ ব্যাংক-কোম্পানীর অর্থে ক্রয় করা যাবে না। তবে, ব্যাংক-কোম্পানীর [size=3][font=Times New Roman]Remittance[/font][/size] বহনের কাজে বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা কর্তৃক ব্যবহৃত নিরাপত্তা-যানবাহনের অনুরূপ গাড়ি ক্রয় করা যাবে।
খ) অন্য কোন ব্যাংক-কোম্পানী বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে লীজ ফাইন্যান্সিং সুবিধা গ্রহণ করে কোন মোটরগাড়ী সংগ্রহ করা যাবে না।
গ) ব্যাংক-কোম্পানীর অর্থে ক্রয়কৃত মোটরযান বহরে যানবাহনের সংখ্যার প্রবৃদ্ধি ব্যাংকের জনবল ও অফিস/শাখার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। এ খাতে ব্যয়ের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি শতকরা ১০ ভাগের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সাধারণভাবে পর্ষদ চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর জন্য সার্বক্ষণিক গাড়ীসহ সকল যানবাহন অন্তত: পাঁচ বছর ব্যবহারের পর প্রতিস্থাপনযোগ্য হবে।
ঘ) ব্যাংকের মোটরযান বহরের ব্যবহার ও পরিচালনা ব্যয়ের তথ্য ষান্মাসিকভাবে পরিচালনা পর্ষদের সভায় এবং প্রত্যেক বার্ষিক সাধারণ সভায় অবগতি ও পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপন করতে হবে।
২) সাজসজ্জায় উচ্চব্যয় পরিহারে অনুসৃতব্য নির্দেশনা:
ক) এখন থেকে নতুন শাখা স্থাপন বা বিদ্যমান শাখা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে শহর শাখার জন্য ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) বর্গফুট ও পল্লী শাখার জন্য ২,০০০ (দুই হাজার) বর্গফুট এর অধিক ফ্লোর স্পেস ব্যবহার করা যাবে না।
খ) আইটি সরঞ্জাম ব্যতীত অন্যান্য খাতে (ভল্ট স্থাপন, ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন, অফিস ফার্নিচার, ইলেকট্রিক/ইলেকট্রনিক ইত্যাদি) নতুন শাখা স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটের জন্য ১,৫০০/- (এক হাজার পাঁচশত) টাকার অধিক ব্যয় করা যাবে না এবং বিদ্যমান শাখা স্থানাস্তরের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটের জন্য ১,০০০/- (এক হাজার ) টাকার অধিক ব্যয় করা যাবে না। আইটি সরঞ্জাম বাবদ ব্যয়ও যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখতে হবে।
গ) আসবাবাদি ও অন্যান্য সরঞ্জামে বিলাসিতা বা চাকচিক্যের পরিবর্তে মৌলিক প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে পর্যাপ্ত গুনগত মান ও টেকসই হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই সার্কুলার লেটার জারি করা হলো যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই সার্কুলার লেটার কার্যকর হওয়ার পর থেকে বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং-১৭ তারিখঃ ১৭ আগস্ট ২০০৩ এবং বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং-০৫ তারিখঃ ১৬ জুলাই ২০১২ বাতিল বলে গণ্য হবে।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]