সম্পদ বেড়েছে জাপানের, কপাল পুড়েছে ব্রিটিশদেরসম্পদ বৃদ্ধির দিক দিয়ে শীর্ষস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনেই ফেলে দিল জাপান। চলতি বছর জাপানের সম্পদ বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ ট্রিলিয়নে ১ লাখ কোটি ডলার)।
যুক্তরাষ্ট্রের বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি সম্পদ হারিয়েছে যুক্তরাজ্য, দেড় ট্রিলিয়ন ডলার।
দেশগুলোর সম্পদ বৃদ্ধি আর হারানোর এই চিত্রটি গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট ২০১৬-এ উঠে এসেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আর্থিক সেবাপ্রতিষ্ঠান ক্রেডিট সুইসের রিসার্চ ইনস্টিটিউট সপ্তমবারের মতো এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়েছে, গত ১২ মাসে বৈশ্বিক সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ২৫৬ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। আর্থিক সম্পদের চেয়ে এবার অস্থাবর সম্পদ যেমন, গাড়ি, বাড়ি, জমিজমা ইত্যাদি বেড়েছে।
এদিকে, জাপানের সম্পদ সবচেয়ে বেশি বাড়লেও একটি কিন্তু আছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েন অতিমূল্যায়িত হওয়ার কারণেই দেশটির সম্পদ বেড়েছে।
তবে ইয়েনের হিসাবে তাদের সম্পদ খুব একটা বাড়েনি। প্রকৃতপক্ষে জাপানের প্রাপ্তবয়স্ক জনগণের মাথাপিছু সম্পদ বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।
অবশ্য মোট সম্পদের দিক থেকে জাপানের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র অনেক এগিয়ে। জাপানের ২৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের পরিমাণ ৮৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ভবিষ্যৎ সুদের হার ও শেয়ারবাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ দেড় ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়েছে।
এ ছাড়া ১০ হাজার কোটি ডলার বা তার বেশি সম্পদ বেড়েছে জার্মানি, ফ্রান্স, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিলে।
আগেই বলা হয়েছে, সম্পদ হারানোর দিক দিয়ে অন্য সবাইকে পরাজিত করেছে যুক্তরাজ্য। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেওয়াই কাল হয়েছে ব্রিটিশদের।
সব মিলিয়ে তাদের সম্পদ কমেছে ১০ শতাংশ বা দেড় লাখ কোটি ডলার। চীনাদের কপাল অবশ্য ব্রিটিশদের চেয়ে অর্ধেক কম পুড়েছে। তাদের সম্পদ কমেছে ৬৮ হাজার কোটি ডলার। তবে মোট সম্পদে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পরই তৃতীয় অবস্থান চীনের। তাদের মোট সম্পদ ২৩ ট্রিলিয়ন।
এদিকে, গত বছর ২৭টি দেশ ১০ হাজার কোটি ডলার বা তার বেশি সম্পদ হারালেও এবার সেটি ৮-এ নেমে এসেছে। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি ডলারের নিচে সম্পদ হারিয়েছে মেক্সিকো, রাশিয়া, আর্জেন্টিনা, তাইওয়ান, সুইজারল্যান্ড ও ইতালি।
বেশি সম্পদ হারিয়েছে যুক্তরাজ্য ও চীন।ক্রেডিট সুইসের রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন বলছে, সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশের কম (০.৭%) মানুষের হাতেই আছে বিশ্বের ৪৬ শতাংশ সম্পদ।
আর ৭৩ শতাংশ দরিদ্র মানুষের কাছে আছে মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ সম্পদ। যাদের সম্পদ ১০ লাখ ডলারের বেশি, তাদেরই সবচেয়ে ধনী ধরা হয়েছে। অন্যদিকে ১০ হাজার ডলারের কম সম্পদ আছে এমন মানুষদের দরিদ্র হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে সারা বিশ্বের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মাত্র ১৮ শতাংশের বসবাস। তবে এই দুটি অঞ্চলেই রয়ে গেছে বিশ্বের মোট সম্পদের ৬৫ শতাংশ।
চীন ও ভারত ছাড়া এশিয়া প্যাসিফিকে বিশ্বের ২৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক থাকলেও তাদের দখলে আছে বৈশ্বিক সম্পদের মাত্র ২১ শতাংশ। চীনে বিশ্বের ২১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের বসবাস। তবে সম্পদ মাত্র ৯ শতাংশ।
প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছর ১০ লাখ ডলারের বেশি সম্পদ আছে বা মিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ৩ কোটি ২৯ লাখ ৩১ হাজারে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি, ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৪ হাজার মিলিয়নিয়ার আছে যুক্তরাষ্ট্রে।
গত এক বছরে দেশটিতে মিলিয়নিয়ার বেড়েছে ২ লাখ ৮৩ হাজার জন। দ্বিতীয় শীর্ষ মিলিয়নিয়ার, ২৮ লাখ ২৬ হাজার জন আছে জাপানে। গতবারের চেয়ে এবার তাদের মিলিয়নিয়ার বেড়েছে ৭ লাখ ৩৮ হাজার।
যুক্তরাজ্যে যেমন সম্পদ কমেছে তেমনি মিলিয়নিয়ারের সংখ্যায় টান পড়েছে। ব্রেক্সিটের কোপে গতবারের চেয়ে এবার দেশটিতে ৪ লাখ ৬ হাজার মিলিয়নিয়ার কমেছে।
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে আছে ২২ লাখ ২৫ হাজার মিলিয়নিয়ার। এ ছাড়া সুইজারল্যান্ডে ৫৮ হাজার, চীনে ৪৩ হাজার, তাইওয়ানে ২৭ হাজার মিলিয়নিয়ার কমেছে।
মাহমুদ.





