ঈদের পরে ক্রেতা কম হলেও খুচরা বাজারে বেড়েছে বেশ কয়েকটি নিত্য পণ্যের দাম। মাংস, ডিম ও মুরগীর দাম বেড়েছে। সেইসাথে বেড়েছে বেশ কয়েকটি সবজি, আটা ও মসুরের ডালের দাম। ঈদের রেশ এখনো কাটেনি রাজধানীর খুচরা বাজারে। দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে অনেকেই না ফেরায় অন্য শুক্রবারের তুলনায় এদিন বাজারে ভীড় কম।
তবে, দাম কম নয়। রোজার পণ্য নামে পরিচিত তেল, চিনি, ছোলার দাম অপরিবর্তিত থাকলেও, ভাল মানের মসুরের ডাল কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। আবার বাড়ছে বিদেশী রসুনের দাম। কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়।
তবে, বাজারে তার অর্ধেক দামে দেশী রসুন থাকলেও চাহিদা বেশী বিদেশী রসুনের। বৃষ্টির অজুহাতে লেবু, কাঁচা মরিচ, টমেটোসহ বেশ কয়েকটি সবজির দাম বেড়ছে। ঈদে গ্রাম ঘুরে আসা ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সবজির এই বাড়তি দাম নিয়ে।
৩৭/৩৮ টাকা হালির লাল ডিম এখন আবার চল্লিশ টাকা। ব্রয়লার মুরগীর দামও বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা কেজিতে। গরুর মাংস ২৭৫ টাকা নির্ধারন করা থাকলেও, ঈদকে উপল করে এখনো তা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজিতে।
ভরা মৌসুমে আমদানী বাড়লেও প্রত্যাশা মত কমেনি মাছের দাম। এমনকি গত মৌসুমের তুলনায় এবারে ইলিশের দামও অনেক বেশী। এছাড়া, অপরিবর্তিত আছে চালসহ অন্যান্য নিত্য পণ্যের দাম।
শুক্রবার রাজধানীর বাজারে বেড়েছে সবজির দর। দোকানগুলোতে নতুন সবজি তোলার কারণে একটু বেশি দরে সবজি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা ।
রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো, কাঁচা মরিচ, লতি, ঝিঙ্গা, কাকরোল, মূলার দর বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজিতে। তবে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। আর ৮০০ গ্রামের ইলিশের হালি বিক্রি হচ্ছে ৩২০০ থেকে ৩৪০০ টাকা দরে। তবে চাল, ডাল, মাছ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দর স্বাভাবিক রয়েছে।
মুরগি ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেক খুচরা ব্যবসায়ীরা এখনো গ্রাম থেকে ঢাকা ফিরেনি। পাইকারিতে মুরগির চালান বেশি আসায় দরও কমতির দিকে। বাজার স্বাভাবিক হতে এখনো দুয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
শুক্রবার বাজারে ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, আলু ২৫ টাকা , ধুন্দল ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, দেশি গাজর ৫০ টাকা, , কচুর মুখি ৫০, কচুর লতি ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, শশা ৪০-৫০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, প্রতি হালি লেবু ২০-৩০ টাকা ও কাঁচাকলা হালি ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ফুল কপি ২৫-৩০ টাকা, বাঁধা কপি ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩৫-৪০ টাকা, জালি কুমড়া ৩০-৩৫ টাকা, লাউ ৪০-৫০ টাকা, সবুজ শাক আটি ১০ টাকা, লাউ শাক ২০ টাকা, লাল শাক ৫ টাকা, মুলা শাক ৫ টাকা, পুঁইশাক ১৫-২০ টাকা, ডাটা ১০-১৫ টাকা, কলমি শাক ৫ টাকা ও ধনে পাতা (১০০ গ্রাম) ২০ টাকা।
৮০০ গ্রামের ইলিশ হালিপ্রতি ৩২০০ টাকা, প্রতি কেজি পাঙ্গাস ১৩০-১৭০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০-২২০ টাকা, মাঝারি পোয়া মাছ ৫০০-৬০০, মৃগেল ১৮০-২৮০ টাকা, বাটা ২২০-২৫০ টাকা, রুই ২৬০-৩৫০ টাকা, চেওয়া ৪০০-৫০০ টাকা, দেশি পুঁটি ৪৫০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৪০০-৫০০ টাকা, বড় চিংড়ি ৬০০-৮০০ টাকা, টেংরা ৫০০-৭০০ টাকা, পাবদা ৬০০-৭৫০ টাকা, শিং মাছ ৫৫০-৮০০ টাকা, কাতল ২৮০-৪০০ টাকা, দেশি মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা।
প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩৮ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ টাকা, দেশি আদা ১৮০-২০০ টাকা, চায়না আদা ২৪০-২৬০ টাকা, রসুন একদানা ১৫০ টাকা, বড় রসুন ৮০-৯০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১০৫-১১০, ভারতীয় মসুর ডাল ৮০-৮৫ টাকা, অস্ট্রেলিয়ান মসুর ডাল ১১০-১১৫ টাকা, খেসারি ডাল ৪৫ টাকা, ছোলা ৭০ টাকা, মুগ ডাল ১১০-১১৫ টাকা, মটর ডাল ৮০ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৪৬, বুট ডাল ৭০ টাকা, খোলা চিনি ৪৬-৪৭ টাকা, প্যাকেট চিনি ৫০ টাকা এবং আটা ৩২ টাকা দরে বিক্রি করছেন দোকানিরা।
প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১০৫-১১০ টাকা ও পামলিন ৯০ টাকা। এছাড়া ব্রয়লার মুরগির প্রতি হালি লাল ডিম ৩০ টাকা ও হাসের ডিম ৪০ টাকা।
প্রতি কেজি মিনিকেট ৪৮-৫০ টাকা, মোটা চাল ৩৮ টাকা, বি.আর. ঊনত্রিশ ৩৮-৪০ টাকা, বি.আর.আটাশ ৪০-৪২ টাকা, পারিজা ৩৭-৩৮ টাকা, নাজির ১ নং ৫০-৫২ টাকা এবং চিনিগুঁড়া ৮০-৯০ টাকা।
ঢাকা, ১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এমআর





