“বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ড” এই শিরোনামে দেশের একটি জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, জমা রাখা হয়েছিল ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার চাকতি ও আংটি, তা হয়ে আছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। ২২ ক্যারেট সোনা, হয়ে আছে ১৮ ক্যারেট।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলন ডাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. রবিউল হুসাইন বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত স্বর্ণ হেরফের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মঙ্গলবার(১৭ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “এটা আসলে যথাযথ নয়।”
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধানের তথ্যের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার চাকতি ও আংটির জায়গায় এখন আছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। ২২ ক্যারেট সোনা হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট।
রবিউল হুসাইন বলেন, “শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরের নিজস্ব রিপোর্টের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মেশিনের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মেশিনের মাপের পার্থক্য হয়। এই মেশিন নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।”
রবিউল হুসাইন আরও বলেন, “শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যে কর্মকর্তা এটি জমা রেখেছিলেন উনি একটি প্রত্যয়নপত্র আমাদের দিয়েছেন যে কালো প্রলেপযুক্ত যে স্বর্ণের চাকতি এবং রিং তা যথাযথ আছে; উনি যেভাবে রেখেছিলেন, যেমনটি রেখেছিলেন। তা লিখিত প্রত্যয়নপত্রে আমাদের জানিয়েছেন।”
ওই সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রবিউল বলেন, “২২ ক্যারেট সোনা হয়ে গেল ১৮ ক্যারেট। প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে। এটাও আসলে যথাযথ নয়।”
যেসব স্বর্ণ নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার আবেদন করা হয়েছে বলে জানান রবিউল হুসাইন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে স্বর্ণ চুরির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহিদুল ইসলাম বলেন, ১ বছরের বেশি সময় অনুসন্ধান করে তারা ওই অনিয়ম পেয়েছেন। “বাংলাদেশ ব্যাংক যেহেতু একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, তারা বিষয়টি অনুসন্ধান করে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করবেন বলে আশা করছি।”
কিন্তু অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবাদ সম্মেলনে ভল্টের দায়িত্বে থাকা কারেন্সি অফিসার আওলাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ২২ ক্যারেটের জায়গায় ১৮ ক্যারেট হওয়ার বিষয়টি দুটি ভিন্ন যন্ত্রে পরিমাপের কারণে হয়েছে। “শুল্ক গোয়েন্দারা যখন সোনা জমা রাখেন, তখন হয়ত তাদের মেশিনে ২২ ক্যারেট দেখিয়েছিল, কিন্তু আমাদের মেশিনে সেটি ১৮ ক্যারেটই হয়েছিল।”
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে শুল্ক গোয়েন্দা।
এমবি





