রাজস্ব আহরণে চ্যলেঞ্জের মুখে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত আট মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিগগিরই ঘোষিত হবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা।
দেশের প্রতিকূল অবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ায় রাজস্ব আদায়ে চাপ সৃষ্টি করা যাচ্ছে না বলে মনে করছে এনবিআর। ফলে আগের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত নতুন লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণ করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থবছরের শুরুতে নির্ধারিত এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে সংশোধিত নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৯০ কোটি টাকা। চলতি মাসের শেষদিকে নতুন লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্তভাবে করা হবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে ঘাটতি পূরণে উন্নয়ন বাজেট কাটছাঁটের পরিকল্পনাও করছে সরকার। প্রবৃদ্ধি কমানো নিয়েও সরকারের ভেতরে নানা টানাপড়েন চলছে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
বাজেট বাস্তবায়নে চলছে দ্বিতীয় ধাপ। প্রথম ভাগের প্রায় পুরোটা সময়ই কেটেছে রাজনৈতিক অস্থিরতায়। সে বিবেচনায় বছর শেষে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
আর সিপিডিও হিসেবে, প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে, অর্থমন্ত্রীর হিসেবটা একটু উপরের দিকেই। চলতি বাজেটে নেয়া ৭ দশমিক ২ শতাংশের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
চলতি বাজেট নিয়ে এরই মধ্যে কাটছাটের হিসেব নিয়ে বসেছে খোদ অর্থমন্ত্রণালয় ও এর বিভিন্ন বিভাগ। বাজেট কাটছাট নিয়মিত ঘটনা হলেও, এ বছর ভিন্ন প্রেক্ষাপটের কারণে খানিকটা হিমশিম খাচ্ছে সরকার।
এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ে। ৯ হাজার ৮শ কোটি টাকার বেশি ঘাটতিতে পড়েছে রাজস্ব বিভাগ। সেই টাকা পূরণেই সরকারের নজর এখন উন্নয়ন বাজেটের দিকে।
জানা যায়, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তাই সর্বশেষ রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে লক্ষ্যমাত্রা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটও সংশোধন করতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। জাতীয় বাজেটে ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআর সংগ্রহ করবে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা। বাকি রাজস্ব করবহির্ভূত খাত থেকে আহরণের লক্ষ্যস্থির করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
এ ধারাবাহিকতায় এনবিআর রাজস্ব আদায়ে (জুলাই ২০১৩-জানুয়ারি ২০১৪) অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে রাজস্ব ঘাটতিতে রয়েছে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। একই অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৩) রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৮ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে ঘাটতি হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। আলোচ্য মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশ। কিন্ত চলতি অর্থবছর বাজেটে এর প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ২১ শতাংশ।
সার্বিক দিক বিবেচনা করে আগের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে সংশোধিত নতুন লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণ করতে যাচ্ছে এনবিআর। নতুন এ লক্ষ্যমাত্রা চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র মতে, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তাই সর্বশেষ রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে লক্ষ্যমাত্রা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটও সংশোধন করতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। জাতীয় বাজেটে দুই লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআর সংগ্রহ করবে এক লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা।
বাকি রাজস্ব করবহির্ভূত খাত থেকে আহরণের লক্ষ্য স্থির করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ধারাবাহিকতায় এনবিআর রাজস্ব আদায়ে (জুলাই ২০১৩-জানুয়ারি ২০১৪) অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব ঘাটতিতে রয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।
একই অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৩) রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে আট হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ঘাটতি হয়েছে ছয় হাজার কোটি টাকা।
আর এসব মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশের চেয়েও কম। ফলে চলতি অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা আদায় নিয়ে এনবিআর পড়েছে বিপাকে। এ ধরনের ঘাটতি থেকে রেহাই পেতে লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে। অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আদায়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকার বিপরীতে নতুন সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার আকার দাঁড়াবে এক লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা।
এ ধরনের একটি প্রস্তাব পেশ করে এনবিআর। অর্থাৎ পূর্বের তুলনায় ১২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত নতুন লক্ষ্যমাত্রা পুননির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন জানান, দেশের প্রতিকূল অবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ায় রাজস্ব আদায়ে চাপ সৃষ্টি করা যাচ্ছে না। ফলে কৌশলে আদায় কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এনবিআর। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সব সময় সচেষ্ট থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ জন্য প্রত্যেক কমিশনারেট অফিসকে পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দিয়ে বাকি সময় কাজে মনোযোগী হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তবে এ মুহূর্তে রাজস্ব আদায় বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। জানুয়ারিতে এ ঘাটতির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। তাই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে এনবিআর।
[b]ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]