সরবরাহ সংকটে আকস্মিক বেড়ে গেছে কাঁচামরিচের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ টাকা। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হলেও শনিবার হয় ১২০-১৩০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের ছুটিতে স্থলবন্দরগুলোর কার্যক্রম না থাকায় মরিচের আমদানি প্রায় বন্ধ ছিল। এতে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। বর্তমানে এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। তাছাড়া বৃষ্টির মৌসুমে মজুদকৃত মরিচ নষ্ট হওয়ায় পণ্যটির আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।

মরিচের পাশাপাশি দাম বেড়েছে পেঁয়াজেরও। তিনদিন আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৮-৪০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে শনিবার তা বিক্রি হয় ৪০-৪৫ টাকায়। অর্থাৎ গত তিনদিনের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা। এছাড়া এক সপ্তাহ ধরে আদা, রসুনও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মরিচের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। তাই দাম ঊর্ধ্বমুখী। দাম বাড়া প্রসঙ্গে শান্তিনগরের মরিচ বিক্রেতা আজিজ বলেন, আড়তে সরবরাহ কম থাকায় পাইকারিতে দাম বেড়েছে কেজিতে ২০-৩০ টাকা। বেশি দামে কিনতে হয় বলে বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশিতে।

এদিকে ঈদের পর কয়েকদিন বাজারে ক্রেতা কম থাকায় মাছের দাম কম ছিল। এখন বাজারে চাহিদার তুলনায় মাছের যোগান কমে গেছে। তাই পাইকারি বাজারে বিক্রেতারা দাম বেশি রাখছেন। ফলে খুচরা বাজারে বেশিরভাগ মাছের দাম কেজিতে ২০-১০০ টাকা করে বেড়েছে।

অন্যদিকে পবিত্র রমজানে রাজধানীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দফায় দফায় বাড়লেও এবার কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কাঁচাবাজারে টমেটো, শসা, বেগুনসহ বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে।

তবে পেঁয়াজ ও মাছের দাম একটু চড়া। এছাড়া পোলাও চালের দাম কমলেও অন্য মুদি পণ্য গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ঈদের আগে খাসির মাংস প্রতি কেজিতে ৫৫০ থেকে ৫৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৮০-৫০০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৭৫ টাকা, গরুর মাংস ৩০০ টাকা ও কবুতর জোড়া ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরবরাহ সংকটের দোহাই দিয়ে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী কোরবানির ঈদ আসার আগেই পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বাড়াচ্ছেন। আগামীতে মরিচের দাম কমার সম্ভাবনা থাকলেও পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামে ঊর্ধ্বগতি অপরিবর্তিত থাকবে।

গত সপ্তাহ থেকেই ঊর্ধ্বমুখী দরেই বিক্রি হচ্ছে আদা ও রসুন। দেশী আদা ১৮০-২০০ টাকা, চায়না আদা ২৪০-২৫০, রসুন একদানা ১৫০ এবং বড় রসুন ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ সংকটের কারণে মরিচের দাম ওঠানামা করাটা স্বাভাবিক। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ, রসুন ও আদার মজুদ করে বাজারে দাম বাড়াচ্ছে। কোরবানির আগে এটা কমানো সহজ হবে না।

ক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহ থেকে আদা-রসুনের দাম বাড়ছিল। এখন বাড়ছে পেঁয়াজের। এরপর সব ধরনের মসলার দাম বাড়বে। এটা বিক্রেতাদের চালাকি। ক্রেতার সুবিধার্থে মসলার বাজারে এখন থেকেই সরকারি নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

এদিকে দেশী মসুর ডালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬-৮ টাকা। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া মসুর ডাল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০৮-১১০ টাকায়। ভারতীয় মসুর ডাল ৮০-৮৫ এবং অস্ট্রেলিয়ান মসুর ডালের দাম ১১০-১১৫ টাকা। মুগ ডাল ১১০-১১৫, মটর ডাল ৮০, অ্যাংকর ৪৬, বুটের ডাল ৭০, খোলা চিনি ৪৬-৪৭, প্যাকেট চিনি ৫০ এবং আটা ৩২ টাকায় বিক্রি করছেন দোকানিরা।

গত সপ্তাহ থেকেই মাছের দাম একটু চড়া। সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০-৫০ টাকা বেড়েছে। এক্ষেত্রে ইলিশের দাম আকারভেদে বেড়েছে ৪০-৫০ টাকা। বড় সাইজের প্রতি জোড়া ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, এখন ইলিশের মৌসুম না হওয়ায় দাম বাড়তির দিকে। তবে এক মাস পর মৌসুম শুরু হলে দাম কমবে।

এছাড়া রুই ২৬০-৩৮০, রূপচাঁদা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০, বেলে ৫০০-৭০০, বাইন ৬০০-৭০০, চেওয়া ৪৫০-৫০০, ফলি ৪০০-৫০০, তেলাপিয়া ১৮০-২৫০, মাঝারি পোয়া মাছ ৫৫০-৬৬০, মৃগেল ২২০-২৮০, দেশী পুঁটি ৪৫০, ছোট চিংড়ি ৪৫০-৫৫০, বড় চিংড়ি ৬০০-৯০০, টেংরা ৫৫০-৭০০, পাবদা ৬০০-৭৫০, শিং মাছ ৫৫০-৮০০, কাতল ২৬০-৪০০, দেশী মাগুর ৬০০-৯০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

পোলাও চালের দাম কমলেও অন্যান্য মুদিপণ্যের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। পোলাও চাল মানভেদে ৫ টাকা কমে ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি মোটা চাল ৩৮, মিনিকেট ১ নং ৪৮-৫০, মিনিকেট ২ নং ৪৩-৪৪, বিআর২৯ ৩৮-৪০, বিআর২৮ ৪০-৪২, পারিজা ৩৭-৩৮ এবং নাজিরশাইল ১ নং ৫০-৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ৪ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে ৯৮ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৯৪ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। সুপার বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ৯০ টাকায়। দাম কমেছে হলুদের। কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। ঈদের আগে খাসির মাংস প্রতি কেজি ৫৫০-৫৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন হচ্ছে ৪৮০-৫০০ টাকায়।

গরুর মাংসের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ২৯০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকা। কবুতর জোড়া ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগির প্রতি হালি লাল ডিম ৩২ এবং হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

এদিকে সবজির বাজারে মিশ্রাবস্থা লক্ষ করা গেছে। কোনোটির দাম কমেছে, কোনোটির বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে টমেটো কেজিতে ২০০ টাকা থেকে কমে ১২০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ থেকে কমে ৩০-৪০, কাঁকরোল ৫০ থেকে কমে ৪০, বরবটি ৬০ থেকে কমে ৪০, শসা ৪০-৫০ থেকে কমে ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া করলা ৮০ টাকা, শিম ৯০, ঝিঙা ৪০, কচুর মুখি ৫০, পেঁপে ২৫-৩০, করলা ৪০, ঢেঁড়স ৪০, চিচিঙ্গা ৪০, আলু ২৫, ধুন্দল ৪০, দেশী গাজর ৫০-৬০, কচুর লতি ৪০, পটোল ৩০, প্রতি হালি লেবু ২০-৩০ এবং কাঁচকলা হালি ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকা, ৯ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এমআর