ধারাবাহিকভাবে দেশের শেয়ারবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে অংশগ্রহণ কমেছে। দেশের দুই শেয়ারবাজারে গেল সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে।
গেল সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ডিএসইএক্স সূচক কমেছে প্রায় ৫১ পয়েন্ট। অন্যদিকে লেনদেন কমেছে ৭ শতাংশ। গেল সপ্তাহে ডিএসই দৈনিক গড় লেনদেন নেমে আসে ২৮৫ কোটি টাকায়। দেশের অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক কমেছে প্রায় ১৫২ পয়েন্ট।
মূলত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া নজরদারির কারণে ব্যাংকসহ অধিকাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী অনেকটা নিষ্ক্রিয় রয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিশ্রেণীর বড় বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেনে অংশগ্রহণ কমছে। এতে ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ ওষুধ খাত ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও এর ইতিবাচক প্রভাব সার্বিকভাবে বাজারে পড়ছে না।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশই সাইডলাইনে রয়েছে। গত সপ্তাহেও তারা ছিল নিষ্ক্রিয়। রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা তত্পরতা দেখালেও প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিল সামান্য। টানা দরপতনের কারণে শেয়ারদর নিচে নেমে আসায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনে লোকসান সমন্বয় করেছেন।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গেল সপ্তাহে অধিকাংশ খাতে বাজার মূলধন কমেছে। এর মধ্যে ব্যাংকিং ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, খাদ্য ২ দশমিক ২২ শতাংশ, বিদ্যুত্ খাতে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ, সিমেন্ট খাতে ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বাজার মূলধন কমেছে। বড় খাতগুলোর মধ্যে টেলিযোগাযোগ খাতে বাজার মূলধন বাড়ে ১ দশমিক ২২ শতাংশ।
অন্যদিকে ছোট মূলধনি খাতের কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল। এর মধ্যে পাট খাতে ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ, পেপার প্রিন্টিং খাতে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও চামড়া শিল্প খাতে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ বাজার মূলধন বাড়ে।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহের লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসের মধ্যে দুইদিন বড় দরপতন হয়। তবে শেষের দুই কার্যদিবস সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এর মধ্যে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার সূচক কমে ৩৯ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট। এদিন লেনদেন হয় ২৪৩ কোটি টাকা। পরের কার্যদিবস সোমবার সূচক কমে ৫৩ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট। এদিন লেনদেন হয় ২৯৯ কোটি টাকা। মঙ্গলবার সূচক বাড়ে ৩২ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট। এদিন লেনদেন হয় ৩০০ কোটি টাকা। শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার সূচক বাড়ে ৯ দশমিক ২৮ পয়েন্ট। এদিন লেনদেন হয় ৩০০ কোটি টাকা।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে ৩০০টি কোম্পানির মোট ২১ কোটি ৫১ লাখ ৫০ হাজার ৬০৮টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়। যার বাজারদর ছিল ১ হাজার ১৪২ কোটি ৯৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৪টির, কমেছে ১৮৪টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২২টির।
ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স গেলে সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫০ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫০৮ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্টে। অন্যদিকে নির্বাচিত সূচক ডিএসই-৩০ গেল সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৭ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৬০৮ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে।
সিএসইতে গেল সপ্তাহে ২৪৭টি কোম্পানির মোট ২ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৪টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়েছে। যার বাজারদর ছিল ১০৩ কোটি ৮৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৩টির, কমেছে ১৬৪টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১০টির।
সিএসইর সার্বিক সূচক গেল সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৫১ দশমিক ৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৯৩৮ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট। অন্যদিকে নির্বাচিত সূচক সিএসই-৩০ গেল সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪৭ দশমিক ১৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১১৭৮৪ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে।
[b]ঢাকা, ২৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]