গোবিন্দগঞ্জে উপজেলার ভূট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কম খরচ ও অল্প পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় উপজেলার কৃষকদের নজর এখন ভূট্টার চাষের দিকে। এই মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে ভূট্টার আবাদ করা হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
এই মৌসুমে কৃষকরা ভূট্টার উচ্চ ফলনশীল জাত হিসাবে ৬নং-১০১ জাতের ভূট্টার চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভূট্টার বাম্পার ফলনের আশা করছেন এলাকার ভূট্টা চাষিরা।
এ বিষয়ে কাটাবাড়ী গ্রামে কৃষক তাজুল প্রধান জানান, মূল্য কম হওয়ায় ধানের চাষ করে প্রতি বছরই তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। গত বছরের বোরো ধানে যে লোকসান হয়েছে সেই লোকসানের বোঝা এখনো টানতে হচ্ছে। তাই বিকল্প পথ হিসাবে অন্যান্য ফসলের মধ্যে তিনি ভূট্টা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
মালেকাবাদ গ্রামের কৃষক আছলাম জানান, এ মৌসুমে ধান চাষের উপযুক্ত ৩ বিঘা জমিতে তিনি ভূট্টার আবাদ করেছেন। ভূট্টা ফসল থেকে উপার্জিত আয় পরবর্তীতে ধান ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদনে সহায়তা পাবেন বলে তিনি দাবি করেন।
নাছিরাবাদ গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ভূট্টার আবাদ করে আসছেন। ভূট্টার ফলন অধিক হওয়ায় এখন অনেকেই ভূট্টার চাষের দিকে ঝুকছেন। এছাড়াও ভূট্টা উৎপাদনে সার কম প্রয়োগ করতে হয়, সেচ, কীটনাশক ও নিরানির প্রয়োজন হয় না। খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফলন হয়ে থাকে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোছাঃ ছাহেরা বানু জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভূট্টার চাষ হচ্ছে।
আমন ধানের লোকসান পুষিয়ে নিতে কৃষকরা ভূট্টা চাষের প্রতি ঝুকে পড়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৮ থেকে ৯ টন ভূট্টার ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। ভূট্টার বিভিন্ন রোগ বালাই সম্পর্কে কৃষকদের করণীয় ও তা থেকে ভূট্টার আবাদ রক্ষার কৌশল সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
এমএম





