বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) হিসেবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের এক নম্বর অবস্থান ধরে রেখেছে ব্র্যাক। জেনেভাভিত্তিক গণমাধ্যম সংগঠন ‘এনজিও অ্যাডভাইজার’-এর পর্যালোচনায় সংস্থাটি এ স্বীকৃতি পায়।
আজ সোমবার ‘এনজিও অ্যাডভাইজার’-এর ওয়েবসাইটে (www.ngoadvisor.net) এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সেরা ৫০০ এনজিওর তালিকা তৈরি করে তাদের এক বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ ঘোষণা আসে।
ব্র্যাক থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ সোমবার এ তথ্য জানানো হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে প্রভাব, নতুন ধারা প্রবর্তন ও পরিচালন ব্যবস্থার অনন্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরিতে ব্র্যাক এ স্বীকৃতি পেয়েছে। এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে এনজিও ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক উদ্যোক্তা সংগঠন ‘দ্য স্কল ফাউন্ডেশন’।
স্বীকৃতির পর ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ব্র্যাক বিশ্বে প্রথম এনজিও হিসেবে দ্বিতীয়বার স্থান পাওয়াটা নিঃসন্দেহে মর্যাদার। বিশ্বজুড়ে আমাদের লক্ষাধিক কর্মী প্রতিদিন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে। দারিদ্র্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে করণীয় খুঁজে বের করা ও তা প্রয়োগ করায় আমরা এখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ‘এনজিও অ্যাডভাইজার’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জন ক্রিস্টোফ নথিয়াস বলেন, ‘২০১৭ সালে আবারও ব্র্যাক বিশ্বসেরা হলো তার উদ্ভাবন, প্রভাব ও পরিচালনা পদ্ধতির অনন্য ভূমিকার জন্য। বিশ্বব্যাপী একের পর এক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবাদানে ব্র্যাক এখন নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী।’
২০১৩ সালে এই র্যাংকিং করত ‘দ্য গ্লোবাল জার্নাল’। ওই বছরও ব্র্যাক শীর্ষস্থান লাভ করে। তারপর ২০১৬ সালে এ র্যাংকিং দেওয়া শুরু করে ‘এনজিও অ্যাডভাইজার’।
ব্র্যাক ১১টি দেশে দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পর ব্র্যাক এখন তার ব্যয়সাশ্রয়ী উন্নয়ন মডেল, অতি দরিদ্রদের উন্নয়নে প্রমাণিত সমাধান কৌশল, দুর্যোগ-পরবর্তী সেবাদান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। বর্তমানে প্রায় ১৪ কোটি মানুষ এর সুবিধাভোগী।
মাহমুদ





