মংলা সমুদ্র বন্দরের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি বিমানবন্দর এবং আন্তর্জাতিক মানের ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। পাশাপাশি মাওয়া-নোয়াপাড়া-মংলা পর্যন্ত রাস্তাকে ৪ লেনে উন্নীতকরণের সুপারিশ করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অষ্টম বৈঠকে এ সব সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রী মো. শাজাহান খান, তালুকদার আব্দুল খালেক এবং মো. আনোয়ারুল আজীম (আনার) অংশ নেন। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মংলা বন্দরের সদস্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশেনের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়, মংলা বন্দরের জনবল নিয়োগের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। রুজবেল্ট জেটির নাম পরিবর্তনের জন্য ৩টি নামের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মংলা বন্দরের উন্নয়নে দীর্ঘ, মধ্য ও স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই বন্দরটিকে বিশ্বমানের আদর্শ বন্দর করার লক্ষ্যে ‘স্ট্র্যাটেজিক মাস্টারপ্ল্যান ফর মংলা পোর্ট’-এ টিএপিপি প্রণয়ন কার্যক্রম চলছে।

কমিটি মংলা বন্দরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার লক্ষ্যে একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন এবং রেলওয়ে লিংক, ফোর লেন প্রকল্প, বিমান বন্দর, ব্রিজসহ যে সব কাজের প্রয়োজন সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে একটি সারমর্ম প্রস্তুত করার সুপারিশ করেছে।

বৈঠকে স্থলপথে আমদানি-রফতানি কাজে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন, পণ্য হ্যান্ডলিং এবং সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষ ও সাশ্রয়ী সেবা প্রদানের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া বৈঠকে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার প্রয়োজনে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশেনকে নতুন জাহাজ ক্রয়ের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং চট্টগ্রাম বন্দরে সিএন্ডএফ এজেন্ট নিয়োগের জন্য যত দ্রুত সম্ভব দরপত্র আহ্বানের সুপারিশ করা হয়।

জেআই