নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় দীর্ঘ সময় ধরে আগুনের লেলিহান শিখার কারণে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।

কারখানাটির ভেতরে বিভিন্ন রাসায়নিকসহ দাহ্যপদার্থ মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

সর্বশেষ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভবন থেকে এখন পর্যন্ত ৪৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ জনে দাঁড়াল।

জানা গেছে, ভবনের চতুর্থ তলায় ললিপপ, তরল চকলেট, তৃতীয় তলায় অরগানিক পানীয় (জুস, লাচ্ছি), দোতলায় টোস্ট বিস্কুট, বিভিন্ন ধরনের পানীয় এবং নিচতলায় বাক্স ও পলিথিন তৈরির কারখানা ছিল। পঞ্চমতলার একপাশে সেমাই, সেমাই ভাজার তেল, পলিথিন; অপর পাশে কারখানার গুদাম ছিল। কারখানার ষষ্ঠতলায় ছিল কার্টনের গুদাম। টানা ২১ ঘণ্টা ধরে আগুনে পুড়ছে পুরো কারখানা।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জানান, কারখানাটির ভেতরে বিভিন্ন রাসায়নিকসহ দাহ্যপদার্থ মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয়েছে। ভবনটিতে ফাটল ধরায় আরো সতর্কতার সাথে কাজ করতে হয়েছে।

কয়েকজন শ্রমিক জানায়, আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবনটিতে এক হাজার-১২০০ শ্রমিক কাজ করতেন। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই ভবনের পঞ্চম তলায় থাকা ২৫-৩০ জন শ্রমিককে দড়ি দিয়ে ছাদ থেকে নিচে নামিয়ে বীরত্বে পরিচয় দিয়েছেন তাজুল ইসলাম। যে ২৫-৩০ জন শ্রমিক তিনি নামিয়েছেন, তাদের কেউ আহত হননি।

শ্রমিকদের ছাঁদ থেকে নামাতে গিয়ে তাজুল ইসলাম নিজেই কিছুটা আহত হন। তাজুল ইসলাম ওই ভবনের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (ডিপ্লোমা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি জানান, বিকেল ৫টার দিকে তিনি ওই ভবনের ৫তলায় ইলেকট্রিক্যাল কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে গ্যাসের গন্ধ পেয়ে শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে চারদিকে ছুটতে থাকেন।

এ সময় আগুন লাগার খবরে ৫তলার শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে ভবনের ছাদে চলে যায়। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ওপরে দড়ি পাঠালে তাজুল ইসলাম একাই ২৫-৩০ জন নারী শ্রমিককে নিচে নামিয়ে আনেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, “আমি নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই কাজটি করেছি। আমি নিজেই এখন একটু অসুস্থ। তাই আর আপনাদের সাথে কথা বলতে পারছি না।”

শুক্রবার (০৯ জুলাই) দুপুরে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জানান, পাঁচ অ্যাম্বুলেন্সে করে আমরা ৪৯ জনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠিয়েছি, ময়নাতদন্তের জন্য। তিনি আরও বলেন, কারখানাটির ভেতরে বিভিন্ন রাসায়নিকসহ দাহ্যপদার্থ মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয়েছে। ভবনটিতে ফাটল ধরায় আরও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে।

এমবি