শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণেও চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, এবারের বাজেটে ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি, ডিম কিংবা মাছের ওপর সরাসরি কোনো নতুন কর বা শুল্ক আরোপ করা হয়নি। ফলে ঈদের আগের সময়ের তুলনায় এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। সাধারণত বাজেটের পর এসব পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা থাকলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।
বাজারে বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৩২০ টাকা। ডজনপ্রতি ডিমের দাম রয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।
মাছের বাজারেও বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজার ও এলাকার ভেদে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ মাছ আগের দামের কাছাকাছিই বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে পাঙাশ মাছের কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি মাছ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ি মাছের দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে। আকার ও প্রজাতি অনুযায়ী প্রতি কেজি চিংড়ির দাম ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে।
কাঁচাবাজারে সবজির সরবরাহও ভালো রয়েছে। ফলে অনেক সবজির দাম এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে এসেছে। অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও কিছু ব্যতিক্রমী সবজির দাম এর চেয়ে বেশি।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে চিকন চালের দাম ১ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক মাস আগে যে চিকন চাল কেজিপ্রতি ৭০ টাকায় পাওয়া যেত, বর্তমানে তা ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ২ টাকা।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, উন্নত মানের চিকন চালের দাম কিছুদিন আগে ৩ থেকে ৫ টাকা কমে ৮০ থেকে ৮২ টাকায় নেমে এলেও বর্তমানে তা আবার বেড়ে কেজিপ্রতি ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, মাঝারি মানের চালের দাম ২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে মাঝারি মানের চাল, যা আগে ৫২ টাকায় নেমেছিল, এখন ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে এক মাস আগে ৪৮ টাকায় বিক্রি হওয়া মোটা চালের দাম কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৫২ টাকায় পৌঁছেছে।
এনএইচ