বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে ছুটির কারণে গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে একদিন কম লেনদেন হয়েছে। এ কারণে আর্থিক লেনদেনেও তার প্রভাব পড়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাড়ে ১৪ শতাংশ কম লেনদেন হয়েছে। আর্থিক লেনদেন কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহে বাজার মূলধন, সূচক ও মূল্য-আয় (পিই) অনুপাতও কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে (এপ্রিল ১০ থেকে এপ্রিল ১৩) ৪ কার্যদিবসে ডিএসইতে আর্থিক লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে (৩ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল) লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৪৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের সপ্তাহের তুলনায় আর্থিক লেনদেন কমেছে ১৪.৪৯ শতাংশ।
তবে গড় হিসাবে আগের সপ্তাহের তুলনায় আর্থিক লেনদেন সামান্য বেড়েছে। গত সপ্তাহে গড় আর্থিক লেনদেন হয়েছে ৪৩৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে এ লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪০৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে গড় লেনদেন বেড়েছে ৬.৮৯ শতাংশ।
গত সপ্তাহে মোট লেনদেনের ৮৭.৫৫ শতাংশ ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত, ১.৬৭ শতাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত, ১০.০১ শতাংশ ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত এবং ০.৭৮ শতাংশ ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে লেনদেন হয়েছে।
এদিকে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহে ডিএসইর তিনটি সূচকই কমেছে। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া ৩২৫টি ইস্যুর মধ্যে ৮০টির দর বেড়েছে, কমেছে ২২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির দর।
সপ্তাহের শুরুতে ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৪৪৪৩.০৭ পয়েন্ট। সপ্তাহ শেষে তা নেমে গেছে ৪৪০৮.৬৪ পয়েন্টে। এ হিসাবে গত সপ্তাহে সূচক কমেছে ৩৪.৪২ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচক বেড়েছিল ৮৫.৫৩ পয়েন্ট। এছাড়া গত সপ্তাহে ডিএস-৩০ সূচক ২.৮৮ পয়েন্ট ও ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯.৯১ পয়েন্ট কমেছে।
অপরদিকে আগের সপ্তাহের তুলনায় বাজার মূলধন কমেছে ০.২৭ শতাংশ। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসিইর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৯ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। সপ্তাহের শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। এছাড়া মূল্য-আয় (পিই)অনুপাত কমেছে ০.৩৪ শতাংশ। সপ্তাহের শুরুতে পিই ছিল ১৪.৫৬। সপ্তাহের শেষে তা দাঁড়িয়েছে ১৪.৫১-এ।
সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া ইস্যুগুলোর মধ্যে লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে ডরিন পাওয়ার। সপ্তাহ শেষে কোম্পানিটির ৭৮ কোটি ১৬ লাখ ২৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।সপ্তাহজুড়ে মোট লেনদেনের ৪.৪৭ শতাংশই হয়েছে এ কোম্পানির। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আমান ফিডের লেনদেন হয়েছে ৬৩ কোটি ২২ লাখ ১৮ হাজার টাকা যা, সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩.৬২ শতাংশ। ৫৮ কোটি ৬৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স।
লেনদেনে এরপর রয়েছে যথাক্রমে- বিএসআরএম, কেয়া কসমেটিকস, পাওয়ারগ্রীড, ইবনে সিনা, যমুনা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, তিতাস গ্যাস।
এমই





