বিভিন্ন ব্যাংকের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার অভিযোগ এসেছে, যার ৯৮ শতাংশই নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেছে বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
তিনি বলেন, এ পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, দেশের ক্রমবর্ধমান গ্রাহকের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্র তথা ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি এন্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট যথেষ্ট সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে।
সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ভবনের ৫ম তলার জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্রের ‘বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৩-১৪ এর প্রকাশনা প্রকাশ’ কালে গভর্নর এসব কথা বলেছেন।
গভর্নর বলেন, দেশের আর্থিক খাতের রেগুলেটর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকএকটি স্থিতিশীল আর্থিক ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবার মানোন্নয়নের প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়ার ফলে বিগত ২০০৯ থেকে ২০১৪ সময়ে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ হয়েছে।
বর্তমানে দেশে ব্যাংক হিসাবের পরিমাণ দশ কোটির মতো যার মধ্যে দশ টাকায় খোলা হিসাব রয়েছে এক কোটি ৩৩ লাখ এবং মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব রয়েছে পৌনে দুই কোটি। এসব গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার্থে ২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্র’ চালু করে।
দেশের ক্রমবর্ধমান গ্রাহকের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্র তথা ফাইনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি এন্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট এর ডেডিকেটেড কর্মকর্তাগণ গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত সেবা দানের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের ব্যাংকিং সেবা প্রত্যাশী অগণিত মানুষের ব্যাংকিং ও ব্যবসায়িক জিজ্ঞাসার জবাব দিয়ে যাচ্ছে।
আতিউর বলেন, এর আগে গ্রাহকরা কাক্সিক্ষত সেবা না পেলে বা হয়রানির শিকার হলে তাদের অভিযোগ করার কোনো জায়গা ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকে গ্রাহক স্বার্থ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং এ কেন্দ্রে পৃথক হটলাইন ‘১৬ ২ ৩৬’ চালুর পর থেকেই গ্রাহকদের কাছ থেকে আমরা ব্যাপক সাড়া পেতে শুরু করি। এছাড়া, ই-মেইল ও পত্রযোগেও গ্রাহকরা অভিযোগ করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে।
গভর্নর বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকগণের স্বার্থ সংরক্ষণ, তাদেরকে নানা হয়রানি থেকে রক্ষা করা, ব্যাংকের ওপর তাদের আস্থা ও বিশ্বাস সুদৃঢ় করা এবং সর্বোপরি উন্নত ও দক্ষ গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে ‘গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্র্র’ চালু করা হয়।
তিনি বলেন, এই বিভাগটি প্রতিবছরই তাদের সম্পাদিত কার্যক্রমের ভিত্তিতে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। আজকের এই প্রকাশনায়ও ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের পরিসংখ্যানভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘‘সমস্যাটা জানাই হলো সমস্যা সমাধানের উত্তম উপায়’’।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ক্যাব এর সভাপতি গোলাম রহমান, ডেপুটি গভর্নর এস. কে. সুর চৌধুরী, এবিবি’র চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার, নির্বাহী পরিচালক মনিরুজ্জামান।
সভাপতি হিসেবে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিিিট এন্ড কাস্টমার সাভিসেস ডিপার্টমেন্ট এর দায়িত্বে নিয়োজিত মহাব্যবস্থাপক মো: সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনের দায়িত্বে ছিলেন সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট এর দায়িত্বে নিয়োজিত উপমহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার রায়।
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর





