টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারিখাতের হাতে থাকা বিপুল সম্পদ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগে রাজি করাতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, বেসরকারিখাতের হাতে বিপুল পরিমাণে অর্থ থাকলেও তা সৃজনশীলখাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না। ফলে স্বল্পোন্নত দেশগুলো কাক্সিক্ষত উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে।

জেনেভা সফররত শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আঙ্কটাড এর দ্বি-বার্ষিক বিনিয়োগ সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিনিয়োগ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তৃতাকালে একথা বলেন।

নেদারল্যান্ডের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী মিজ. লিলিয়েন প্লোমেন এর সভাপতিত্বে বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আঙ্কটাডের মহাসচিব ড. মুখিসা কিটুই । এতে দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী রব ডেভিস সহ চীন, বাহামা, ভুটান, ক্রোয়েশিয়া, কোষ্টারিকা, ইথিওপিয়া, কিরগিস্তান, লাওস, মালি, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, সুদান, যুক্তরাষ্ট্র, তিউনিসিয়া, নাইজার, নাইজেরিয়া, ইকুয়েডর, গুয়েতেমালা, মাদাগাকারসহ অন্যান্য দেশের মন্ত্রীরা আলোচনায় অংশ নেন।

বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে শুধুমাত্র উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই বছরে ৩.৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। এর বিপরীতে বর্তমানে প্রতি বছর মাত্র ১.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশসহ জলবায়ুর ঝুঁকিতে থাকা স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে অধিকহারে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে আঙ্কটাড এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহবান জানান।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবসময় উদার আর্থিক ও বিনিয়োগ নীতি অনুসরণ করে আসছে। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) নির্ধারণের আগ থেকেই এদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। ফলে নিজস্ব অর্থায়ন ও দক্ষতায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অনেকখাতে এমডিজি’র লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ বেসরকারিখাতকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের টার্গেট নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে বক্তারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বেসরকারিখাতের অংশ গ্রহণ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সামাজিক অগ্রগতির মূল ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগে বেসরকারিখাত মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াতে সুশাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদারের তাগিদ দেন।

এর আগে মন্ত্রী ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগশীর্ষক সংসদীয় সংলাপে অংশ নেন।

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর