বৃহস্পতিবার থেকে ৭ দিনব্যাপী দেশের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প পণ্য জামদানি প্রদর্শনী ও মেলার আয়োজন করছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক)।

রাজধানীর শাহাবাগস্থ বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘরে জামদানি কারুশিল্পীগণ তাঁদের নিপুণ হাতের তৈরি নান্দনিক রূপ ও বৈচিত্রের অনবদ্য সৃষ্টি জামদানি পণ্য সামগ্রী প্রদর্শন করা হবে।

মেলায় মোট ৩৭টি স্টলে তেরছা, জলপাড়, পান্নাহাজার, করোলা, দুবলাজাল, সাবুরগা, বলিহার, শাপলাফুল, আঙ্গুরলতা, ময়ূরপ্যাচপাড়, বাঘনলি, কলমিলতা, চন্দ্রপাড় ও ঝুমকা ইত্যাদিসহ আরও অনেক বাহারি নামের জামদানি শাড়ীর পসরা সাজিয়ে বসবেন।

বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘরে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রদর্শনী ও মেলা সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত থাকবে

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জামদানি প্রদর্শনী ও মেলার উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল−াহ্। অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার স্বাগত বক্তব্য রাখবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে বিসিক জামদানি শিল্পনগরী ও গবেষণাকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করে। প্রায় ৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিসিক নারয়নগঞ্জ জেলাধীন রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো ইউনিয়নের নোয়াপড়াতে ২০ একর জমির উপর জামদানি শিল্পনগরী ও গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন করেছে।

এই শিল্পনগরীতে ৪০৯টি শিল্প প্লট রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৯৯টি প্লট উদ্যোক্তাদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ প্লটে ৩৬৩টি শিল্প কারখানা স্থাপিত হয়েছে। তাছাড়া এখানে একটি হাটকর্ণার রয়েছে। সপ্তাহে প্রতি বৃহস্পতিবার এ হাটে উদ্যোক্তারা জামদানি কারুশিল্পীর উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন।

সূক্ষবস্ত্র হিসেবে এককালে পৃথিবীব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল আমাদের মসলিন। এই সৃষ্টিশীল বস্ত্র ছিল সারা দুনিয়ার বিস্ময়, অন্যদিকে আমাদের গর্ব ও মর্যাদারবস্তু।

মসলিনের মাঝেই বাংলাদেশ আজকে পরিচিতি পেয়েছে বিশ্বময়। সেই মসলিনেরই উত্তরসূরী আজকের জামদানি। আর  বিষয়টি তুলে ধরার জন্য বিসিক এই জামদানি প্রদর্শনী ও মেলার আয়োজন করেছে।

ঢাকা,  ১৫ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর