ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার নলডাঙ্গার মোবারকগঞ্জ চিনিকলে গত তিন মাড়াই মৌসুমে উৎপাদিত প্রায় ৭৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ১৮ হাজার ৬শ'মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে।
এতে করে আখচাষিদের পাওনা বাবদ ২০ কোটি টাকা পরিশোধ করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া মিলের কর্মচারীদের চার মাসের বেতন বোনাসে পাওনা জমেছে আরো ৪ কোটি টাকা।
শনিবার বিকালে দেশীয় চিনি বিক্রি বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোবাবরকগঞ্জ চিনিকল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী, চিনির ডিলার ও সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ সব তথ্য উঠে আসে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠান্ডু, কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজু, কালীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইউনুস আলী ও মিলের সহ-ব্যবস্থাপক (ভান্ডার) বিশ্বাস আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।
সভায় জানানো হয়, মোবারকঞ্জ চিনিকলে বিগত তিন অর্থ বছর অর্থাৎ ২০১১-১২, ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের আখ মাড়াই মৌসুমের ১৮ হাজার ৬শ' মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত পড়ে রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি  ৪০ লাখ টাকা।
এই বিপুল পরিমাণ চিনি বিক্রি না হওয়ার কারণে অবসরে যাওয়া শ্রমিকদের অবসর ভাতাসহ বকেয়া বেতনের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
শুধু তাই নয় চিনি বিক্রি না হওয়ায় মিলের আখচাষীদের প্রায় ২০ কোটি টাকা বকেয়া বয়েছে। এছাড়া মিলের বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মচারী ও শ্রমিকদের চার মাসের বেতন বোনাস প্রায় ৪ কোটি টাকাও পরিশোধ করা যাচ্ছে না।
টাকার পরিবর্তে শ্রমিকদের চিনি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়। এ সমস্যা সমাধানে দ্রুতই সরকার একটি কর্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মত মিল সংশ্লিষ্টদের।
[b]ঢাকা,১১ মে (টাইম নিউজ বিডি)/কেএ[/b]