আমন ধান রোপণ ও পরিচর্যায় কৃষকের হাত যখন শূন্য সে সময় আগাম জাতের আমন উঠায় পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। নতুন ধান উঠায় একদিকে যেমন খাদ্যের অভাব দূর হয় তেমনি ধান বিক্রি করে কৃষকের হাতে কিছু টাকা আসায় অন্যান্য ফসল ও শাকসবজি উৎপাদনে আগ্রহী হন চাষীরা।
ঠাকুরগাঁও জেলা উত্তরের খাদ্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। চলতি বছর ঠাকুরগাঁও জেলায় আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৪৩ হেক্টর জমি। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়।
এ বছর আমন ধান রোপণকালীন সময় থেকে দেশে চালের দাম বেড়ে যায়। মজুর শ্রেণির লোকজন চালের দামে দিশেহারা হয়ে পড়েন। সরকার উপজেলা পর্যায়ে ওএমএস ডিলার নিয়োগ দিলেও গ্রাম পর্যায়ের দিনমজুর ও ক্ষেতমজুররা পড়েন মহাবিপাকে।
জমিতে আলুসহ রবি শাকসবজি চাষের জন্য কৃষকেরা তুলনামূলক উচু জমিতে হাইব্রিড, উফশী জাতের বিনা-৭, এসিআই ১.এসিআই-২, ধানি গোল্ড, ব্রি-৪৯,৫২ ইত্যাদি জাতের ধানের চাষ করে। ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ধান পেকে যাওয়ায় চাষীরা ধান কাটা শুরু করেছেন।
এদিকে কয়েকদিন আগে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় আগাম ধান কাটার উদ্বোধন করা হয়। কৃষি অফিসের মতে, ঠাকুরগাঁও জেলার টিলারং, আখানগর, বালিয়াডাঙ্গী, রানীশংকৈল ও পীরগঞ্জ উপজেলায় আগাম জাতের ধান চাষ করা হয়েছে ২৯ হাজার হেক্টর জমিতে।
আগাম জাতের ধান পেকে যাওয়ায় দিগন্তজুড়ে এখন সোনালী রঙ ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে এসব ধান জমিতে পেকে যাওয়ায় চাষীরা ধান কাটা শুরু করেছেন। ধান কাটতে পেরে কৃষক পরিবারগুলোতে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
চিলারং গ্রামের কৃষক মতিউর মেম্বার জানান, আমন ধান রোপণের পর আর ধানক্ষেতের পরিচর্যা ও বালাইনাশক প্রয়োগ করতে গিয়ে কৃষকদের হাত শূন্য হয়ে পড়ে। আগাম জাতের ধান কাটতে পেরে একদিনে খাদ্য সংকট দূর হয়। অপরদিকে ধান বিক্রি করে কৃষকের হাতে টাকা আসায় আলুসহ শাকসবজি চাষে চাষীরা মনোযোগী হয়।
আখানগর গ্রামের কৃষক শাহিন জানান, আগাম জাতের ধান বিঘা প্রতি ২০-২৫ মণ পাওয়ায় এবং বর্তমান বাজারে ৭শ থেকে ৭৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে পারায় তাদের আনন্দের শেষ নেই।
খড়িবাড়ি গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, আগাম জাতের ধানের জমি ফাঁকা হওয়ায় সেখানে আলুসহ রবি শাকসবজি আবাদ করার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।
নতুন ধান বাজারে উঠায় চালের দাম কমতে শুরু করেছে বলে জানান দিনমজুর খাদেমুল ইসলাম। দরিদ্র মজুররা ধানের জমিতে কাজ করে নগদ টাকা উপার্জন করায় তারা সংসারের অভাব অনটন দূর করতে পেরে বেশ খুশি। গরুর খাবার জোগাড় করতে কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হতো। ২-৩’শ টাকায় প্রতি পণ খড় কিনতে খামারিদের আর্থিকভাবে অনেক টাকা ব্যয় করতে হতো। নতুন ধানের খড় দিয়ে গো খাদ্যের সংকট মোকাবিলা করতে পারছেন।
এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কে.এম মাউদুদুল ইসলাম জানান, আগাম জাতের ধান কাটতে পেরে কৃষকরা নগদ টাকা পেয়ে সবজিসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনে ব্যয় করতে পারবে। একইভাবে মজুর ও শ্রমিকরা কাজ পেয়ে সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে পেরে তাদের পরিবারেও আনন্দ দেখা যাচ্ছে।
এএস





