তাজরীন ফ্যাশন্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিদেশী কোম্পানিগুলো ক্ষতিপুরণ দেয়ার কথা থাকলেও তা অধিকাংশ কোম্পানি এড়িয়ে গেছে। সেই ঘটনার দুই বছর পূর্তিতে সোমবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ -এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার অদূরে সাভারে ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশনসে এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১১২ পোশাকশ্রমিক নিহত হয়। ওই ঘটনার পর তাজরীনের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে জড়িত ১৬টি পোশাক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণের আহ্বান জানানো হয়।
এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, গত বছরের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিপূরণের জন্য লিখিতভাবে আহ্বান জানানো হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডিকিস, সিয়ারস, ডিজনি ও ওয়ালমার্ট এবং ফ্রান্সের টেডি স্মিথ সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর দেয়নি। এ ছাড়া এডিনবার্গ উলেন মিল (যুক্তরাজ্য), এল কার্তে ইঞ্জেলস (স্পেন), সিন কম্বস/এনিস (যুক্তরাষ্ট্র), কার্ল রেইকার (জার্মানি), কেআইকে (জার্মানি), পিয়াজা ইতালিয়া (ইতালি) সামান্য কিছু ত্রাণ বিতরণ করেছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেলজিয়ামের সি এ্যান্ড এ এবং হংকংয়ের লি এ্যান্ড ফুং নামের দুইটি প্রতিষ্ঠান হতাহতদের স্বজনদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থ সাহায্য প্রদান করার কথা বললেও নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ বা সময়সীমা উল্লেখ করেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন তারা বাংলাদেশ সরকার ও বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। কিন্তু তা তাদের চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যয়েই খরচ হয়ে গেছে। বর্তমানে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক কাজ করতে না পারায় তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের প্রধান ব্রাড এডামস বলেন, ‘রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির মতো তাজরীনের ক্ষতিগ্রস্তদেরও বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দরকার।’
জেডআই





