তৈরি পোশাক ও পাট শিল্পের নতুন বাজার হচ্ছে জাপান। সম্প্রতি জাপানে তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামীতে এটা আরো বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়াও জাপান সিনথেটিক ফাইবারের পরিবর্তে পাটের ফাইবারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ জন্য আগামীতে জাপানে পাটপণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের জাপান সফরের উপর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।
কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ বলেন, এবারের সফরে জাপানের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বড় বড় অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের আহবান জানানো হয়েছে। তারা রেল, সড়ক ও যুমনার তলদেশ দিয়ে একটি ট্যানেল নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের সঙ্গী হিসেবে ৪০ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল জাপান সফর করেছেন। যেখানে তৈরি পোশাক ছাড়াও টেক্সটাইল, ডায়িং, সিরামিকস, তথ্যপ্রযুক্তি, হস্তশিল্প, হিমায়িত খাদ্য, চামড়া, পাট পণ্য ও পর্যটন খাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাপান এখন বাংলাদেশের এসব পণ্যের বড় বাজারে পরিণত হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ওই সফরে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা জাপানের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছেন। এই সফরের সময় জাপান বাংলাদেশকে আরও ৬ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ৪৭ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। দেশের অবকাঠামো খাত ও মানবসম্পদ উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ওই সফরে দুই দেশের ব্যবসায়ীক সম্পর্ক আরও কার্যকরী করার লক্ষ্যে জাপান-বাংলাদেশ সমন্বিত অংশীদারিত্ব শীর্ষক একটি কর্মসূচির বিষয়ে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন। এটি দ্রুত শুরু করা হবে।
তিনি জানান, জাপানে পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশের আয় ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তবে রুলস অব অরিজিন সংক্রান্ত নিট পণ্যের জিএসপি সুবিধার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর সমাধানের জন্য উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ জাপানে পোশাক রপ্তানি করেছে ৪৭ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৪ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে ৪০ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে জাপান তাদের চাহিদার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ পোশাক আমদানি করে। যদি এই আমদানির পরিমাণ ১০ শতাংশে উন্নতি করা সম্ভব হয়, তবে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যেত। আশা করছি, এই সফরটি পোশাক শিল্পের জন্য কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
[b]ঢাকা, ১ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]