কক্সবাজারের মহেশখালীতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ কেন্দ্রে কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনে ব্যয় হবে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

‘আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট’ নামের এ প্রকল্পটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মূল্যমানের উন্নয়ন প্রকল্প।

মঙ্গলবার একনেক বৈঠকে এটিসহ ৩৭ হাজার ৩শ ৩৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ৫টি প্রকল্প পাস হয়। পাস হওয়া ৫টি প্রকল্পের মধ্যে ২টি নতুন এবং ৩টি সংশোধিত প্রকল্প।

মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৫ হাজার ৬শ ৮৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা সরকারি অর্থায়নে, ২ হাজার ১শ ১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে এবং ২৯ হাজার ৫শ ৩৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএস) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের বছর ভিত্তিক ব্যয় বিভাজন হলো ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১০৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৯৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫৮২৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৪৮৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৩৭৫৯ কোটি ২ লাখ টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪৬৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬৯৬৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৬৫৯০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

প্রকল্পটির বাস্তবায়নের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে জুলাই ২০১৪ হতে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।

একনেক সভায় জানানো হয়, পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান ২০১০ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫০% বিদ্যুৎ কয়লা থেকে উৎপাদন করা হবে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে।

এ কেন্দ্রের কর্মদক্ষতা হবে ৪১.৯৯% যা বর্তমানে বাংলাদেশের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গড় কর্মদক্ষতা ৩৪% থেকে অনেক বেশি। এক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গড় কর্মদক্ষতা ৩৬% থেকেও বেশি।

বেশি কমর্দক্ষতার টেকনোলজি ব্যবহারের ফলে কম পরিমাণ কয়লার প্রয়োজন হবে এবং কম কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে। ফলে বায়ুদুষণসহ পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব কম পড়বে। নাইট্রাস অক্সাইড এর পরিমাণ রোধ করার জন্য লেঅ রেট বার্ণার স্থাপন করা হবে এবং দুই ধাপে তা প্রজ্বলন করা হবে।

সালফার-ডাই অক্সাইড রোধ করার জন্য সাগরের পানিকে ডি-সালফারাইজেসন মেথড ব্যবহার করা হবে। এ্যাশ রোধ বা কমানোর জন্য ইলেকট্রোস্টেটিক প্রিসিপিটেটর এ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে।

আজকের সভায় পাসকৃত অপর ৪টি প্রকল্প হলো “হাওর অঞ্চলের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবন মান উন্নয়ন” প্রকল্প, যশোর সফ্টওয়্যার টেকনোলজি পার্ক (এসটিপি) স্থাপন (১ম সংশোধিত)” প্রকল্প, “গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প এবং “হাতে কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণে মহিলাদেরকে গুরুত্ব দিয়ে বিটাকের কার্যক্রম সম্প্রসারণপূর্বক আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র বিমোচন” প্রকল্প।

ঢাকা, ১২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এমআর