ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে এর প্রভাব পড়ছে সমগ্র ব্যাংকিং খাতে। ফলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ, সুদহার, সার্ভিস চার্জ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণসহ সব দিকেই।
এসব বিবেচনায় এবার ব্যাংকঋণের সুদের হার কমাতে যাচ্ছে সরকার। শিল্পোদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া ব্যবসায়ী ও শিল্পমালিকদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়নও রয়েছে এ উদ্যোগের নেপথ্যে।
সুদহারের লাগাম টেনে ধরতে আসছে বাজেটে করপোরেট করের হারে বিশেষ কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। তবে আমানতের সুদের ওপর উৎসে কর বাড়ছে না বলেও জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আমানত ও ঋণের সুদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে একক অঙ্কের সুদহার নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সে ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, এ ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির হার ও আমানতের ওপরে দেওয়া সুদ সমন্বয় করে ব্যাংকঋণের সুদহার কমানো হবে।
সম্প্রতি ব্যাংকঋণের বিপরীতে উচ্চমাত্রার সুদহার কমানো বিষয়ক সরকারের দেওয়া এক নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের বিপরীতে নেওয়া সুদহার কমানোর ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা আলাদা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সরকারের কাছে।
সেখানে বলা হয়েছে, ঋণ ও আমানতের মধ্যে সুদহার নির্দিষ্ট করে দিলে তা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। সে ক্ষেত্রে ঋণের বিপরীতে সর্বোচ্চ সুদহার ১১-১২ শতাংশ পর্যন্ত করার পক্ষে মত দেয় সরকারের এই দুই মন্ত্রণালয়।
আরো জানা গেছে, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার কমিয়ে আনতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।
এর আগে সুদহার কমিয়ে আনতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে লিখিত আকারে একাধিকবার প্রস্তাব দিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। ওই প্রস্তাবে ব্যাংকের আমানত ও ঋণের সুদহারের মধ্যকার পার্থক্য বা স্প্রেড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়।
সংগঠনটি বলেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্টের মধ্যে নামিয়ে আনার কথা থাকলেও সে ক্ষেত্রে অধিকাংশ ব্যাংকই তা করতে পারছে না। এতে করে ব্যাংকের পরিচালন ব্যয়, সঞ্চিতির পরিমাণ, করপোরেট কর ও মুনাফা বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু স্প্রেড যদি কমানো যায় তাহলে সুদহারও কমে আসবে।
ব্যাংকগুলো থেকে জানা গেছে, মেয়াদী ঋণে ১৮-২১ শতাংশ সুদহারে ঋণ বিতরণ, চক্রবৃদ্ধি হারে যা ২২-২৫ শতাংশে উন্নিত হচ্ছে। এ ছাড়া সময় শেষের আগে ঋণ সমন্বয় করতে চাইলে ব্যাংকগুলো এ বাবদ অতিরিক্ত ৩-৪ শতাংশ হারে চার্জ আদায় করে থাকে। ফলে সব মিলিয়ে উদ্যোক্তাদের ২৩-২৪ শতাংশ হারে সুদ দিতে হয়।
এর বাইরে ২৫ ধরনের সার্ভিস চার্জের নামে ঢালাও অর্থ আদায়, যা গ্রাহকদের ব্যাংক বিমুখ করছে। অথচ ব্যাংকের এমন অযাচিত অর্থ আদায়ের মাশুল দিচ্ছেন ক্ষুদ্র থেকে শুরু করে সব ব্যবসায়ী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে সুদহার বাড়ছে ব্যাংকিং খাতে। সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সঞ্চয়পত্রের উচ্চ সুদ, ব্যাংকের মুনাফার ওপর অতিরিক্ত করপোরেট ট্যাক্স, পুঁজিবাজারের ওঠানামা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যাংক অতিরিক্ত সুদ আরোপ করতে ব্যাংকগুলো বাধ্য হচ্ছে। এটি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
[b]ঢাকা, ২৪ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
সরকারের নির্দেশে ব্যাংক ঋণের সুদহার কমছে
ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে এর প্রভাব পড়ছে সমগ্র ব্যাংকিং খাতে।





