শিল্পমন্ত্রী আমির হোসের আমু বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিক থেকে ভারতের পরেই বাংলাদেশের স্থান। বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতির একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। অর্থনীতির এ বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও অর্থনীতি গড়ে তোলা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত ‘আগামী দশকের জন্য শিল্পায়নের কৌশল শীর্ষক’ আলোচনায় শিল্পমন্ত্রী  এসব কথা বলেন।
আমির হোসেন বলেন, জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। ২০০৮ সালে মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৬৩০ মার্কিন ডলার। বর্তমানে এটি ১০৪৪ মার্কিন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে।  তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ১শ’ ৮৮টি দেশে বাংলাদেশের তৈরি ৭শ’ ০৫টি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দ্বিতীয়। বাংলাদেশে তৈরি জাহাজ এখন ইউরোপের বন্দরে নোঙর করছে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, আমাদের ওষুধ ৮০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাঙালিদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। ফলে দেশে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। এর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতেও ৮২ হাজার কোটি টাকা তারল্য জমা রয়েছে। চামড়া শিল্পখাতে আমাদের রপ্তানি প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী ১০ বছরের মধ্যে তা ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানো স¤ভব হবে মন্তব্য করেন তিনি।
আমু বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, গুণগত শিক্ষার প্রসার, নারী ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, নির্ভরশীল জনগোষ্ঠির সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সেবা, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বেশ কিছু খাতে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ঈর্ষনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর ফলে বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি কেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিল্পমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি এ.কে. আজাদ এর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
[b]ঢাকা, ১০ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]