ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণীর আয় করসীমা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা এবং করপোরেট কর কমানোসহ বিভিন্ন পণ্যের কাঁচামাল আমদানির ওপর সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহারসহ একগুচ্ছ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব জানায় সংগঠনটি।
আলোচনায় ডিসিসিআই’র সভাপতি শাহজাহান খান বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ভয়াবহ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছে।
এর পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মৌলিক চাহিদা মেটানোর ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় কর্পোরেট কর কমানো ও ব্যক্তি শ্রেণীর আয়মুক্ত করসীমা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছি।
তিনি আরও বলেন, আগামি অর্থবছরে আড়াই লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রণয়ন করা হতে পারে। ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ সহায়ক বাজেট না হলে তা বাস্তবায়ন কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি।
মূল প্রস্তাবনা উপস্থাপনা করে সংগঠনটির পরিচালক হায়দার আকবর খান বলেন, বাংলাদেশের একজন মানুষ বছরে দুই কিংবা আড়াই লাখ টাকা আয় করে কোনো রকমে বেঁচে থাকতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের একজন মানুষের জন্য বর্তমান নির্ধারিত করমুক্ত আয়সীমা যুক্তিসঙ্গত নয়। তাই এবারের বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা জরুরি।
যেখানে প্রথম ধাপে ৩ লাখ টাকা আয়ের ওপর শূন্য শুল্ক, দ্বিতীয় ধাপে ৪ লাখ টাকা আয়ের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক, তৃতীয় ধাপে ৫ লাখ টাকা আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক ও এর ওপরের আয়ে ২০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়।
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পে আমদানি নির্ভর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমালে এই শিল্প প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে পারবে। তাছাড়া এই খাতের উদ্যোক্তারা আরও উৎসাহিত হবেন।
সংগঠনটি প্রস্তাব রেখে বলে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ওপর করের হার ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।
আলোচনায় প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মুনাফার ওপর করের হার ৩৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৭.৫০ শতাংশ করার পাশাপাশি তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির কর হারের পার্থক্য ১০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর হার ৪২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার কথা বলা হয়। মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য করপোরেট করের হার ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা ও যে সব কোম্পানি স্টক মার্কেটের তালিকাভুক্ত হবে তাদের ক্ষেত্রে এ হার ৩৫ থেকে কমিয়ে ৩০ করার প্রস্তাব করা হয়। তবে স্টক মার্কেটের শেয়ার অফ লোডের ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশের স্থলে ২০ শতাংশ হতে হবে।
এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেন, আগামি বছর বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা হলো এক লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। এ টাকা আদায়ের প্রধান মাধ্যম আপনারা। আপনারাই সিদ্ধান্ত দিবেন এ টাকা কোথা থেকে আসবে।
আলোচনায় ডিসিসিআই’র সভাপতি শাহজাহান খান, এনবিআরের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও ডিসিসিআই’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ডিসিসিআই’র মূল বাজেট প্রস্তাবনা পেশ করেন সংগঠনের পরিচালক হায়দার আকবর খান।
[b]ঢাকা, ২৩ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
ব্যক্তি করসীমা বাড়ানো ও করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাব
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণীর আয় করসীমা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা এবং করপোরেট কর কমানোসহ বিভিন্ন পণ্যের কাঁচামাল আমদানির ওপর সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহারসহ একগুচ্ছ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।





