ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে ডুয়েল গেজ রেলপথে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য পরিবহন শুরু হয়েছে।
আজ শনিবার দিল্লীতে বসে রাধিকাপুর স্টেশনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাণিজ্যিক এই রুট উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
তাদের উদ্বোধনের মাধ্যমে সার্কভুক্ত দেশ ভারত, নেপাল, ভূটান এবং মিয়ানমারের রেলপথে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের চুক্তি অনুযায়ী শনিবার একযুগ পর পণ্য পরিবহন শুরু হয়।
ভারতের রাধিকাপুর রেল স্টেশন দিয়ে আজ ভারতের ৪২টি ওয়াগান দিনাজপুরের বিরল রেল স্টেশন অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ৪২টি ওয়াগান হাইস্প্রিট দুই হাজার ২০০ মেট্রিক টন জ্বালানী ডিজেল বাংলাদেশের পার্বতীপুরে আসে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নিমানগর তেল রিফাইনারি ডিপো থেকে ৪২টি ওয়াগান নিয়ে ট্রেনটি যাত্রা করে। ট্রেনটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের দিনাজপুরের পার্বতীপুর তেল ডিপো পর্যন্ত যায়। ট্রেনটি বাংলাদেশের বিরল রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিলে কাস্টমস কর্মকর্তারা বহনকারী মালামাল পরীক্ষা করেন।
এর আগে সকাল ৮টার দিকে জ্বালানী বোঝাই ওয়াগনগুলোকে নিয়ে আসতে বাংলাদেশ থেকে একটি ইঞ্জিন ভারতে প্রবেশ করে। পরে সব ধরনের কার্যক্রম শেষে দুপুরে ট্রেনটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এখন থেকে এই রেলপথে জ্বালানী, পাথরসহ সব ধরনের পণ্য পরিবহনের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশের মধ্যে দ্রুত এবং পণ্য পরিবহন খরচ কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত ভারত এবং স্বাধীনতা পরবর্তী ২০০৪ সাল পর্যন্ত মিটার গেজ রেলপথে নেপাল, ভারত এবং মিয়ানমায়ের সাথে বাংলাদেশে মধ্যে বিরল রেলপথ দিয়ে সীমিত সংখ্যক পণ্যবাহী ট্রেন চলত। ২০০৬ সালে ভারত রাধিকাপুর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ স্থাপন করায় ওই রুটে রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছিল।
এর আগে ৮ মার্চ ভারত থেকে ৪২টি ওয়াগনে দুই হাজার ৪৭২ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে একটি ট্রেন বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
পণ্যবাহি ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের রাধিকাপুরের সাথে বাংলাদেশের দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন (স্টেশন) ইতোমধ্যে ডুয়েল গেজ রেলপথ সম্প্রসারণ কাজ শেষ করা হয়।
পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের সাথে আমদানী ও রফতানির কাজ ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণসহ সরকার ২০০২ সালে বিরলসহ ১৩টি শুল্ক স্টেশনকে স্থল বন্দরে রূপান্তর করে।
এমবি





