চাষীদের নিবিড় পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্মীপুর জেলায় চলতি মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ মৌসুমে বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে অধিক লাভের আশায় উৎপাদিত বাদাম ঘরে তোলার প্রতিক্ষার প্রহর গুনছেন চাষীরা।

জেলা কৃষি অধিদপ্তর জানায়, জেলায় চলতি বছর চার হাজার ২৯৩ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষাবাদ হয়েছে। এরমধ্যে রামগতি উপজেলায় দুই হাজার ১শ হেক্টর, কমলনগর এক হাজার ৩৫৩ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৭৫০ হেক্টর, রামগঞ্জ ৭৫ ও রায়পুর উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে।

উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন। এখানে আবাদকৃত বাদামের অধিকাংশই ঢাকা-১ জাতের।

কমলনগর উপজেলার চরজগবন্ধু গ্রামের হাজী মনতাজ মিয়া জানান, তিনি দেড় একর জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ২৫হাজার টাকা। ৬৫ থেকে ৭০হাজার টাকার বাদাম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। ২০ থেকে ২৫দিন পর বাদাম ঘরে তুলতে পারবেন বলে জানান তিনি।

বাদাম চাষের সাথে জড়িত কয়েক জন চাষী জানান, এবার বাদাম গাছে তেমন কোন রোগ-বালাই নেই। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘা জমিতে ৯ থেকে ১০ মণ বাদাম উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভালো দাম পাওয়ার ব্যপারে আশাবাদী তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, মেঘনার উপকূলীয় অঞ্চল লক্ষ্মীপুর বাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

এখানকার চাষীরা সয়াবিন চাষে ঝুঁকে পড়ায় বাদামের চাষাবাদ তুলনামূলক কম। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাদামের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এআই