চা আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক  প্রত্যাহার করায় এবং দেশে চা আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে রয়েছে দেশীয় চা শিল্প। এ প্রেক্ষিতে চা আমদানিতে আবার ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশীয় চা সংসদ (বিটিএ)।
সোমবার সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাত করে এ দাবি জানিয়েছে বিটিএ নেতারা।
বিটিএ জানায়, ২০১০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত  দেশে চা আমদানির পরিমাণ কম ছিলো। ২০১০ সালে যেখানে ৪ দশমিক ১৩ মিলিয়ন কেজি চা আমদানি হতো, সেখানে ২০১২ সালে তা কমে ১ দশমিক ৯২ মিলিয়ন কেজিতে গিয়ে ঠেকে। কিন্তু চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ঠিক আগমুহূর্তে চা আমদানির উপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। যার কারণে ২০১৩ সালে চা আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে ১০ দশমিক ৬২ মিলিয়ন কেজিতে পৌঁছে।
বিটিএ চেয়ারম্যান মো: সাফওয়ান চৌধুরী বলেন, এভাবে চা আমদানি বাড়ার কারণে এক বছরে দেশীয় চা শিল্পে ৬৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিদেশ থেকে যে চা আনা হচ্ছে তা দেশি চায়ের তুলনায় নিম্নমানের। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়ও কমে যাচ্ছে।
এদিকে চায়ের প্রতি কেজি নিলাম মূল্যও দিনদিন কমছে। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিলে প্রথম সেলে প্রতি কেজি চায়ে গড় নিলাম মূল্য ছিলো ২৭৪ দশমিক ৯৮ টাকা। সেখানে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ৩৯তম সেলে তা কমে ১৪৩ দশমিক ১২ টাকায় নেমে আসে।
বিটিএ দাবি করছে, ২০১৩ সালের  জুলাই থেকে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করার পর চায়ের এই দামে কমতি দেখা দিয়েছে। উল্লেখিত এই সময়ে প্রতি কেজি চায়ের গড় নিলাম মূল্য কমেছে ১৩১ দশমিক ৮৬ টাকা।
এ প্রেক্ষিতে বিটিএ নেতারা দেশীয় চা শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক পুনঃবহাল রাখা এবং শিল্পটিতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন।
এতে অন্যন্যদের মধ্যে  বিটিএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আর্দাশির কবির, সহ-সভাপতি এম শাহ আলম, সংগঠনটির সাবেক চেয়ারপারসন লায়লা রহমান কবিরসহ এর অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিটিএ’র ব্যবসায়ী নেতারা তাদের  দাবি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এছাড়া কয়েক দফায় তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে তারা দেশীয় চা শিল্পকে রক্ষার জন্য তাদের দাবি তুলে ধরেন।
জানা গেছে, চা সংসদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে চা আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তা ৫ শতাংশ কমানো হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাজেট পাসের আগে ২০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
[b]ঢাকা, ৩ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]