মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের (সিএসআর) প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মাসাতের অভিযোগ থেকে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান আমান উল্লাহকে অব্যাহতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এ ছাড়াও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহীর বর্তমান ও সাবেক দুই মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) অব্যাহতি দিয়েছে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি দমন সংস্থাটি।
দুদক সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খানের সই করা আলাদা চিঠিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এ তথ্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুদকের ওয়েবসাইটেও এ সংক্রান্ত চিঠিটির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, মো. আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে এক কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা তাঁর নিজস্ব দাতব্য প্রতিষ্ঠান আমান গ্রুপ ফাউন্ডেশনের নামে হস্তান্তর করে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। গত বছরের ২ ও ৩ এপ্রিল এ পরিমাণ টাকা হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগ ওঠার পর প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টেলিজেন্স বিভাগ বিষয়টি অনুসন্ধানের দায়িত্ব নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে এই অর্থ স্থানান্তরের আগে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো সম্পত্তির রেকর্ড পাওয়া যায়নি। ব্যাংকের পরিদর্শনের পর মো. আমান উল্লাহ তাঁর নিজস্ব সম্পত্তি প্রতিষ্ঠানে দান করেন।
ঘটনাটির অধিকতর তদন্তের জন্য বিষয়টি দুদকে হস্তান্তর করা হয়। দুদকের উপসহকারী পরিচালক সিনথিয়া ফেরদৌস অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন।
অনুসন্ধানে আমান উল্লাহ বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁকে অব্যাহতির সুপারিশ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। তারই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগটি নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তির অনুমোদন দেয় কমিশন।
রেলের বর্তমান ও সাবেক জিএমকে অব্যাহতি:
রেলের নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহীর বর্তমান মহাব্যবস্থাপক আবদুল আউয়াল ভূঁইয়া ও সাবেক মহাব্যবস্থাপক ফেরদৌস আলমকে অব্যাহতি দিয়েছে দুদক।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের এমএলএসএস পদে নিয়োগ নিয়ে ২০১৪ সালে দুদকে আসা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অভিযোগে বলা হয়, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ করা চূড়ান্ত তালিকা বাদ দিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২১ জন এমএলএসএস নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সেই সময়ের মহাব্যবস্থাপক ফেরদৌস আলম তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসাধু উপায় অবলম্বন করেছেন। আর এ কাজে বর্তমান মহাব্যবস্থাপক আবদুল আউয়াল ভূঁইয়াসহ একটি সিন্ডিকেটের যোগসাজশ ছিল বলেও অভিযোগ আসে।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুপারিশ করেন তিনি। তার ভিত্তিতে কমিশন অভিযোগটি নথিভুক্তির সিদ্ধান্ত দেয়।
কেবি





