বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, ব্যাংকগুলো সুদ বাড়ালেও গ্রাহকদের জানায় না। তিনি বলেছেন, ঋণ হিসাবের ক্ষেত্রে সুদ বাড়ানো হলে তা গ্রাহককে জানানো হয় না। ঋণ হিসাবের সুদ কমে গেলে তা গ্রাহকের হিসাবে সমন্বয় করা হয় না। ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত হারের চেয়ে বেশি সুদ ধার্য করা হয়। ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার
আগেই গ্রাহক ঋণ পরিশোধ করলে এটিকে গ্রাহকের পারফরমেন্স বিবেচনায় রিবেট দেয়ার প্রথা থাকলেও তা না দিয়ে আর্লি সেটেলমেন্ট চার্জ হিসেবে বাড়তি আরোপ করা হয়; ঋণ পরিশোধের পর বন্ধকী দলিলগুলো যথাসময়ে গ্রাহককে হস্তান্তর করা হয় না; কোনো গ্রাহক মারা গেলে তার জমাকৃত অর্থ উত্তরাধিকারীদেরকে দেয়ার ক্ষেত্রে অযথা কালক্ষেপণ করা হয়,
এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অপরিচিত ব্যক্তিদের নমিনি বানিয়ে উক্ত অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে; সঞ্চয়ী হিসাবের সুদ দেয়ার ক্ষেত্রে দৈনিক প্রোডাক্টের ওপর সুদ প্রদান না করে মাসিক সর্বনিম্ন স্থিতির ওপর সুদ দেয়ায় আমানতকারীরা প্রকৃত সুদ থেকে অনেক কম সুদ পায়।
ড. আতিউর আরো বলেন, কোনো ব্যাংকের ঋণের সুদহার এখনও অতিরিক্ত মাত্রায় রয়েছে। বর্তমানে তারল্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক বিধায় শিল্প খাতে এরূপ উচ্চহারে সুদারোপ কাম্য নয়। কাক্ষিত প্রবৃদ্ধির হার অর্জনের লক্ষ্যে সুলভ বিনিয়োগ আবশ্যক বিবেচনায় শিল্প খাতে ঋণের সুদহার হ্রাস করে যুক্তিসঙ্গত মাত্রায় নির্ধারণ করার জন্যে তিনি আহ্বান জানান।
সোমবার দুপুরে জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ব্যাংকার্স সভায় গভর্নর ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে এ অনিয়ম তুলে ধরেন। বৈঠকে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
আতিউর বলেন, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতির সূচকগুলো ইতিবাচক ছিল।
তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। অতি সম্প্রতি ৯৬৭ মিলিয়ন ডলার আকু সেটেলমেন্টের পরেও রিজার্ভ এখনো ২১ বিলিয়নের ওপরে রয়েছে। এই রিজার্ভ দেশের ছয় মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি মূল্য পরিশোধের জন্যে যথেষ্ট। মোট দেশজ উৎপাদন ৬ শতাংশের ওপরেই গতিশীল রয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরো বেশি হতে পারতো। অর্থবছর শেষে ডলার-টাকা বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ৭৭.৬৩। এক বছর আগে ছিল ৭৭.৭৬। এটি বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের স্থিতিশীলতাকেই নির্দেশ করে।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে ৫.১৫ বিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে। জুন ২০১৪ শেষে গড় মূল্যস্ফীতি গত অর্থবছরের চেয়ে সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৩৫ শতাংশ এবং পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৬.৯৭ শতাংশ (ভিত্তি বছর ২০০৫-০৬)। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ধারাবাহিকভাবে কমলেও খাদ্য মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সূত্রে অর্থবছর ১৩ এর তুলনায় অর্থবছর ১৪ শেষে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।
তবে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও আগের মাসের তুলনায় কমতে শুরু করেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে গড় মূল্যস্ফীতি আগামী মাসগুলোতে আরো কমবে বলে আশা করা যায়। মে’১৪ শেষে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫.২৫ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৮.১২ শতাংশ। মূলত নীট বৈদেশিক সম্পদ ৩৯.০৭ শতাংশ বৃদ্ধির সূত্রে মুদ্রা সরবরাহ বেড়েছে বলে ধারণা করা যায়।
ঢাকা, ২১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর





