বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে । সোমবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। একটি প্রকল্প হচ্ছে হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (এইচইকিউইপি) এবং মিউনিসিপ্যাল গর্বন্যান্স এ্যান্ড সার্ভিসেস প্রকল্প।
এতে সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোহাম্মদ মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ইউহানেন্স জাট চুক্তি স্বাক্ষর করেন।  
পৃথকভাবে এ ঋণচুক্তি দু’টি  আজ সোমবার ও আগামীকাল (১১ ফেব্রুয়ারি) অন্য প্রকল্পটির জন্য ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল। কিন্ত সময় স্বল্পতার কারণে দুটি চুক্তি একই সঙ্গে করা হলো বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ(ইআরডি) সূত্র জানায়, হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (এইচইকিউইপি) নামের প্রকল্পটিতে শুরু থেকেই বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করে আসছিল। এটির সফল বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা (১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নেগোসিয়েশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্ত জাতীয় নির্বাচনের কারণে একনেক স্থগিত থাকায় এ প্রকল্পটি অনুমোদন না হওয়ায় ঋণ চুক্তিসহ অন্য প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। আজকের এ চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে অর্থায়নের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় মূল প্রকল্পটি মোট ৬৮১ কোটি ৪ লাখ টাকা (এর মধ্যে সরকারী তহবিলের ৮২ কোটি ৫৬ লাখ এবং বিশ্বব্যাংকের ৫৯৮ কোটি ৪৮ লাখ) ব্যয় ধরা হয়েছিল। বাস্তবায়নের সময় ছিল ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রকল্পটি ২০০৮ সালের ২৩ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রথম অনুমোদন দেয়া হয়। এর পর জনবলের সংখ্যা পরিবর্তন ও কয়েকটি নতুন অঙ্গ যোগ হওয়ায় ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে প্রকল্পটি প্রথম দফায় সংশোধন করা হয়। এ প্রস্তাব ২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি একনেকে অনুমোদন লাভ করে। পরবর্তীতে ডলার বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে প্রকল্প ব্যয় ও বাস্তবায়ন মেয়াদ বৃদ্ধি করে এটির দ্বিতীয় সংশোধনী করা হয়। এ সময় ব্যয় বেড়ে ৭৫২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা করা হয় এবং মেয়াদ ২ বছর বাড়ানো হয়। গত বছরের ৭ মে এটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব একনেকে অনুমোদন লাভ করে। এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ছিল ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমানে বিশ্বব্যাংক ১২ কোটি ৫০ লাখ মাকিন ডলার অর্থায়নে আগ্রহ দেখায় প্রকল্পটির তৃতীয় সংশোধনীর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়িয়ে মোট ২ হাজার ৬৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং মেয়াদ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরে তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব সম্প্রতি অনুমোদন করে একনেক।
অন্যদিকে মিউনিসিপ্যাল গর্বন্যান্স এ্যান্ড সার্ভিসেস প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের এ অর্থ ব্যয় করা হবে। জাতীয় নির্বাচনের কারণে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠক স্থগিত হলে এ প্রকল্পটিরও অনুমোদন আটকে গিয়েছিল। ফলে এতে প্রতিশ্রুত বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের বিষয়টি অনিশ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৪৭০ কোটি ৯৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ১ হাজার ৯৫৩ কোটি ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, বাকি ৫১৭ কোটি ২৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা সরকারী তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংক সম্পাদিত গ্রোথ স্টাডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি, এমন ৫টি মেজর গ্রোথ করিডোর ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহের মধ্যে অবস্থিত পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন এবং দক্ষিণ অঞ্চলের ৩টি জেলা শহরকে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইউহানেন্স জাট বলেন, ‘বাংলাদেশের মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী হলেও অসম্ভব নয়। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখা প্রয়োজন। শিগগিরই দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ শহরে বাস করবে তারাই প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি। কিন্ত শহরের স্থানীয় প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ সেবাদান করতে পারছে না। এ জন্য জনগণকে কার্যকর শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী করে তুলতে হবে।’
ইআরডির সচিব মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘নাগরিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রকল্প দু’টি ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।’
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মানসম্মত উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত হিসেবে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (এইচইকিউইপি) নামের এ প্রকল্পটিতে শুরু থেকেই বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করে আসছিল। এটির সফল বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা (১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) দিচ্ছে সংস্থাটি।
এ বিষয়ে গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নেগোসিয়েশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের কারণে একনেক স্থগিত ছিল। ফলে প্রকল্পটি অনুমোদন না হওয়ায় ঋণ চুক্তিসহ আন্যান্য প্রক্রিয়া কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়।
প্রসঙ্গত: সহজ শর্তের এ ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ৪০ বছর। এ ক্ষেত্রে বার্ষিক সার্ভিস চার্জ শতকরা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ এবং কমিটমেন্ট ফি শতকরা দশমিক পাঁচ শূন্য শতাংশ।
[b]ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]