দেশের চলমান হরতাল, অবরোধ ও সহিংসতার কারণে ব্যবসা ক্ষেত্রে অন্তত ৭৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ।

সহিংসতা বন্ধ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দেশব্যাপী জাতীয় পতাকা হাতে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন অনুষ্ঠানে তিনি আজ (রোববার) এ দাবি করেন।

শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আরও বলেন, প্রকৃত পক্ষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরও অনেক বেশি।

তিনি বলেন, এর মধ্যে শুধুমাত্র গার্মেন্টস খাতেই ক্ষতি হয়েছে অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকার, এছাড়া আবাসন খাতে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকাসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিপুল অংকের ক্ষতি হয়েছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধ্বস নামবে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এফবিসিসিআই’র সভাপতি বলেন, প্রতিবছর ৩০ লাখ মানুষ কর্মবাজারে আসছেন, যার বেশির ভাগেরই কর্মসংস্থান হচ্ছে বেসরকারি খাতে। কিন্তু টানা হরতাল-অবরোধে দেশে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা চলমান থাকলে নতুন কর্মসংস্থান দ‍ূরের কথা আগেরগুলোই ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

আমাদের দেশে যে সম্ভাবনা আছে তাতে প্রবৃদ্ধিকে ৮ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। কিন্তু রাজনৈতিক টালমাটালে তা ৬ শতাংশে স্থিতিশীল হয়ে আছে।

ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে জানিয়ে এ হরতাল-অবরোধ নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ণ করতে সরকারের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই’র সভাপতি।

তিনি আরো বলেন, নৃশংসতায় নিহত হয়েছে শিশুসহ ৮৭ জন, পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়েছে ২০০ জন, রেলে নাশকতা হয়েছে ১০ বার এবং ১ হাজার গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে বেলা ১২টায় সমস্বরে জাতীয় সংগীত গেয়ে হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদ জান‍ান দেশের ব্যবসায়ী সমাজ।

এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজী আকরামউদ্দিনের নেতৃত্বে অবস্থান কর্মসূচির শুরুতে সমস্বরে জাতীয় সংগীত গেয়ে ওঠেন ব্যবসায়ীরা। একই সময় দেশের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা হরতালের প্রতিবাদে সমস্বরে জাতীয় সংগীত গেয়ে ওঠেন বলে জানান এফবিসিসিআই’র সভাপতি।

পরে আবারও জাতীয় সংগীত গেয়ে ১৫ মিনিটের এ অবস্থান কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিজিএমইএ’র সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান, একে আজাদ, এফবিসিসিআই’র প্রথম সহ-সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলীসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারী শীর্ষ ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে রাজনৈতিক নেতাদের সংলাপে বসে সমস্যা সমাধানেরও আহবান জানান।

চলমান রাজনৈতিক সংকট শিগগির নিরসন না হলে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা এমন রাজনীতি চাই না যে রাজনীতি দেশে সহিংসতার সৃষ্টি হয়। চলমান এই সংকট শিগগির স্বাভাবিক না হলে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে আমাদের রাস্তায় থাকার কথা ছিল না। কিন্তু দেশের অর্থনীতি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ব্যবসায়ীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এখন সংকট সমাধান ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি সংকটের সমাধান হবে। এ ছাড়া দেশের অর্থনীতিকে বাঁচানোর আর কোনো পথ নেই। আমরা এর সমাধান করে প্রমাণ করতে চাই ব্যবসায়ীরা এক আছে।’

একই সময়ে সারা দেশের ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ ব্যবসা, শিল্প-প্রতিষ্ঠান, চেম্বার-এ্যাসোসিয়েশনের সামনে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা হাতে এবং জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

কেবি/এএইচ