ধারাবাহিকভাবে কমছে নেট বিদেশী বিনিয়োগ। শেয়ারবাজারের চলমান মন্দায় বিনিয়োগ ঝুঁকি এড়াতে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া জুনে ক্রেতার ভূমিকায় থাকলেও জুলাই ও আগস্টে মুনাফা তুলে নেয়ায় শেয়ার বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে বিদেশীদের। এর মধ্যে আগস্টে নেট বিদেশী বিনিয়োগ ছিল চলতি বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে।
ডিএসই সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুসারে, আগস্টে নেট বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল মাত্র ১২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় এ সময় বিনিয়োগের পরিমাণ কমে ৮৪ শতাংশ। এ সময় ডিএসইতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩১৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। যার মধ্যে শেয়ার ক্রয় ১৬৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ও শেয়ার বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৫২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
এদিকে জুলাইয়েও তার আগের মাসের তুলনায় বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে। জুনে ডিএসইতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন ছিল ৬০২ কোটি টাকা। যা জুলাইয়ে নেমে এসেছে ২৫৩ কোটি টাকায়। আগের মাসে শেয়ার বিক্রির চেয়ে ক্রয়ের পরিমাণ বেশি থাকলেও চলতি মাসে বিদেশীদের ক্ষেত্রে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। জুনে মোট লেনদেনের মধ্যে শেয়ার ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ৪৮২ কোটি ৫১ লাখ ৫ হাজার টাকা, যা জুলাইয়ে নেমে এসেছে মাত্র ৮৬ কোটি ৮০ লাখে। এ হিসাবে এক মাসে শেয়ার ক্রয়ের পরিমাণ কমেছে ৮২ শতাংশ। অন্যদিকে জুনে বিদেশীদের বিক্রয়ের পরিমাণ ছিল ১১৯ কোটি ৮৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, যা চলতি মাসে ১৬৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
জানা গেছে, জুলাই ও আগস্টের টানা দরপতনের কারণে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশীরাও শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া ঝুঁকি এড়াতে চলতি মাসে তারা কিছু মুনাফাও তুলে নিয়েছেন। এর আগে গত মে মাসেও বিদেশী বিনিয়োগকারীর লেনদেন প্রায় অর্ধেক কমে যায়। সে সময়ে নেট বিদেশী বিনিয়োগ কমে প্রায় ৭৮ শতাংশ। যদিও মার্চের তুলনায় এপ্রিলে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসই নেট বিদেশী বিনিয়োগ ছিল ছয় গুণ বেশি।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারিতে দেশের বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিষ্ক্রিয় থাকায় শেয়ারবাজারে গত ফেব্রুয়ারিতে লেনদেন পরিস্থিতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীরাও সাইডলাইনে চলে যান। জুনে প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে মূলধনি মুনাফার ওপর করারোপকে কেন্দ্র করে বাজারে মন্দাবস্থা আরো দীর্ঘ হয়। পরবর্তীতে চূড়ান্ত বাজেট পাসের সময় তা প্রত্যাহার করা হলে জুনের শেষভাগে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে ঊর্ধ্বমুখী ধারা ছিল স্বল্পস্থায়ী। এতে বাজারে পর্যাপ্ত ক্রয়াদেশ না থাকায় মন্দা অবস্থা তৈরি হয় বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে গত মে মাসেও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে অংশগ্রহণ কমতে দেখা যায়। আগের মাসের তুলনায় ওই মাসে নেট বিদেশী বিনিয়োগ কমে প্রায় ৭৮ শতাংশ। মে মাসে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও থেকে মোট ৫৭৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে শেয়ার ক্রয় ও বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩৫৩ কোটি ৬ লাখ ও ২২৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার। যদিও এপ্রিলে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের পরিমাণ আগের মাসের চেয়ে ৪২৭ শতাংশ বাড়তে দেখা গেছে। এপ্রিলে বিদেশী বিনিয়োগ হয়েছিল ১ হাজার ১৮০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ সময় নেট বিদেশী বিনিয়োগ হয় ৫৭২ কোটি ৮ লাখ টাকা। চলতি বছরে বিদেশী বিনিয়োগে এটিই ছিল সর্বোচ্চ।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, আগের বছরের তুলনায় সর্বশেষ হিসাব বছরে হঠাত্ করেই বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফা ও লভ্যাংশের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এপ্রিলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির উল্লেখযোগ্য শেয়ার ক্রয় করেন। এপ্রিলের এ প্রবণতা মে মাসেও দেখা গেছে। এরই মধ্যেই বহুজাতিক কোম্পানিগুলো অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা দেয়া শুরু করেছে। এতে এসব শেয়ারের দর বাড়ায় মুনাফা তুলে নিচ্ছেন বিদেশীরা। এদিকে বহুজাতিক কোম্পানির পাশাপাশি স্থানীয় জ্বালানিসহ অন্যান্য খাতের কিছু কোম্পানিতেও বিদেশীদের বিনিয়োগ বেড়েছে বলে সূত্রে জানা যায়।
এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে নেট বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৭৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এই মাসে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা মোট শেয়ার কেনাবেচা করেন ৫২৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে নেট বিনিয়োগ হয় ১২১ কোটি ৫ লাখ টাকা ও লেনদেন হয় ৫৩৩ কোটি ৫ লাখ টাকা। এছাড়া মার্চে নেট বিদেশী বিনিয়োগ ছিল ৯৭ কোটি টাকা। এ সময় মোট লেনদেন হয় ৩১৩ কোটি টাকা।
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর





