গ্রাহকদের কয়েক লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন রূপালী ব্যাংকের সোনাইমুড়ী উপজেলা শাখার এক ব্যবস্থাপক। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ভুক্তভোগীরা।

উধাও হয়ে যাওয়া ব্যাংক কর্মকর্তার নাম বেলায়েত হোসেন মিলন। তিনি রূপালি ব্যাংক আমিশাপাড়া বাজার শাখার ম্যানেজার ও সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের বাসিন্দা।

আমিশাপাড়া বাজার শাখা থেকে বদলি হয়ে গত ২৪ এপ্রিল বেলায়েত হোসেনের নোয়াখালী জোনাল অফিসে যোগদান করার কথা ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তিনি ওই শাখায় যোগদান করেননি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, গত ২৪ এপিল বেলায়েত হোসেনের পদে আমিশাপাড়া শাখায় নতুন ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন মোশারফ হোসেন। দুদিন পর (২৬ এপ্রিল) কয়েকজন গ্রাহক নতুন ম্যানেজারের কাছে এসে তাদের একাউন্টের ব্যালেন্স এলোমেলো বলে অভিযোগ করেন। বিষয়টি তিনি গ্রাহকদের লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলেন।

পরবর্তীতে ব্যাংকের কয়েক লাখ টাকা নিয়ে আগের ম্যানেজার বেলায়েত হোসেন মিলন পালিয়ে গেছে বলে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় ম্যানেজার মিলন তাদের চেক বই ও স্বাক্ষরে সমস্যা আছে বলে তাদের কয়েকজনের কাছ থেকে পুরাতন চেক বইসহ লিখিত আবেদন গ্রহণ করেন। তারা ধারণা করছেন, পরে ওই আবেদন থেকে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে চেকে বসিয়ে তাদের টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন ম্যানেজার মিলন।

রূপালি ব্যাংক আমিশাপাড়া শাখার বর্তমান ম্যানেজার মোশারফ হোসেন জানান, তিনি ২৬ এপ্রিল ব্যাংকে যোগদানের পর ওই দিন কয়েকজন গ্রাহকের কাছ থেকে টাকার হিসেবে এলোমেলো থাকার অভিযোগ পান। পরবর্তীতে ৭/৮জন গ্রাহক তাদের চেক ও স্বাক্ষর নকল করে আগের ম্যানেজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে টাকার পরিমাণ জানা যায়নি।

মোশারফ হোসেন আরো বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ২৭ এপ্রিল রূপালি ব্যাংক নোয়াখালী জোনাল অফিসের প্রিন্সিপাল অফিসার আব্দুল হালিমকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।

ম্যানেজার বেলায়েত হোসেন মিলন কোথায় আছেন জানতে চাইলে বর্তমান ম্যানেজার বলেন, ‘তিনি (বেলায়েত হোসেন মিলন) গত ২৬ এপ্রিল জোনাল অফিসে যোগদানের কথা থাকলেও ওই দিনের পর থেকে এখনো পর্যন্ত যোগদান করেননি।

এমআইএস